Posts

তপনের ডায়েরি ৭ / ৩১ আগস্ট ২০২১

তপনের ডায়েরি ৭ ৩১ অগাস্ট ২০২১ দুপুর ৩টে ........ এই জাস্ট খেয়ে উঠলাম। ডাক্তারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথা হলো দেখলাম বুবলুর সঙ্গে। আমার এই হঠাৎ চিকিৎসা ওকে বেশ বড় করে দিচ্ছে দেখলাম। আমিও খুব উপভোগ করছি ওর এই নিজস্বতাকে।  একটু আগে মা ফোন করল। রুপা এসে নিয়ে যাচ্ছে মা'কে জয়পুর। সুন্দর বুঝিয়েছে মা'কে।  আজ দিনটা সুন্দর ছুটি পেয়েছি। এখন বুবলু অফিস গেছে। স্বপ্না একটু শুতে গেলো, আমি তাই একটু লেখা নিয়ে বসেছি।  আজ সকালের একটা ঘটনার কথা বলে রাখি। হাত ঘড়িটা চেয়ে দেখলাম, রাত ৪টে বাজে। একটু বাথরুম থেকে এসেই খুব ভাবতে ইচ্ছে করলো, কি করি আমার এই এতো গানবাজনার বই-কাগজপএ নিয়ে। একটা দারুন চিন্তা মাথায় এলো। সেও স্বপ্ন নিয়েই চোখে ঘুম এলো আবার। একটু ভালো করে দেখি জানাচ্ছি।

তপনের ডায়েরি ৬ / ৩০ আগস্ট ২০২১

৩০ আগস্ট ২০২১ তপনের ডায়েরি-৬ /  মা'কে নিয়ে চিন্তায় আছি।  আমার হঠাৎ একটু শারীরিক অসুস্থতা মা'র মাথায় সেভাবে চাপানো হয় নি। তবু মা তো ? কিছু বোঝে নিজে থেকে, আর কিছুটা না বুঝিয়েই। সুতরাং দেখলাম, রুপার বাড়ি জয়পুর (সেই রাজস্থান) যেতে খুব একটা না করল না।   

স্টেরয়েড ছোট গল্প রচনা : তপন বসু

স্টেরয়েড ছোট গল্প  রচনা : তপন বসু  স্টেরয়েড, স্টেরয়েড  ........  লাগবে না কি বাবু ? - হাঁক পাড়ে ফেরিওয়ালা।  উৎসুক পল্লীবাসীর উঁকিঝুঁকি। প্রশ্ন ভেসে আসে - 'কি বিক্রি করছ ? স্টেরয়েড ? মানে ইঞ্জেকশন ? ওষুধ'? হ্যাঁ গো বাবুমশায়েরা। ইঁদুর মারার, আরশোলা মারার ওষুধ যখন বিক্রি করতুম তখন তো তোমরা, ছেলে-ছোকরারা আমায় বলতে, 'মানুষ মারার ওষুধ আছে '?  'এই তো এনেছি, এবার নাও দেখি - এতে মানুষ যেমন মরবে, আবার বাঁচবেও - হ্যাঁ গো সত্যি বলছি গো' - ফেরিওয়ালার শেষের কথায় ঘাম ঝরা বেদনা ফুটে বেরিয়ে আসে।  ঝুম্পা বৌদি আকাশছোঁয়া ফ্ল্যাট-বাড়ির উপরতলার বাসিন্দা।  পাঁচ তলার বারান্দা থেকে এতক্ষণ টপ ভিউ নিচ্ছিল। বেশ মজা পেয়ে রসিকতার আমেজে বললে, 'তো এটা কিভাবে নিতে হবে? কতক্ষণ লাগবে শুনি মরতে' ?  ফেরিওয়ালা খুব সিরিয়াস - 'দেখছেন না আমার এই বাক্স? এতে বরফ দিয়ে মোড়া আছে - যেমন ইনসুলিন নাও গো তোমরা, শুধু হাতে ফুটিয়ে দিলেই চলবে। যদি অন্যকে মারতে চাও, ঠিক বলতে পারব না ; আর যদি নিজে মরতে চাও, তাহলে বেশিক্ষণ লাগবে না'। ঝুম্পা বৌদির ঠিক উল্টোদিকে মধ্যবয়স্কা তপ...

টয়লেট (ছোট গল্প) রচয়িতা : তপন বসু

Image
  টয়লেট (ছোট গল্প) রচয়িতা : তপন বসু ‘খোকা ! একটু আয় না রে’ ! পাশের ঘর থেকে বাবার ডাক। ‘বড্ড জোর পেয়ে গেছে, একটু টয়লেটে নিয়ে যাবি’ ? বাবা আবার বলেন, এবার আর একটু গলা উঁচিয়ে। ‘আঃ ! দাঁড়াও না ! একটু চেপে রাখো ! হাতের কাজটা সেরেই যাচ্ছি' - ল্যাপটপে মগ্ন ছেলে বিরক্তি প্রকাশ করে, কর্তব্যকে অস্বীকার না করে।  অফিসে ফাইল পাঠিয়ে হাতের কাজ সেরে খোকা পাশের ঘরে যায়, বাবার কাছে - 'যাবে এখন' ? বাবা বলেন, ‘তুই আর কি করবি ? এতো কাজের চাপ ! ডাকলেই তক্ষুনি কি আর আসা যায় ? চলে গেছে রে। আবার এলে বলব'। - 'কি করি বল ? আমি যে একলা হাঁটতে পারি না রে তুই ছাড়া' - বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। বাবা-মা দুজনেই আশি পার, একজন অষ্টাশি, মা চুরাশি। এমনিতে সুস্থ, কিন্তু কাউকে না ধরে একলা হাঁটতে পারে না। আসলে পায়ের ব্যালেন্সটা গেছে। আবার ডাক। খোকা নিজেই তখন টয়লেটে, সবে সিগারেটটা ধরিয়েছে - 'উফ ! এবার বেরোই কি করে'? বাবা উৎকণ্ঠায় মা'কে জিজ্ঞেস করেন, 'হ্যাঁ গো, খোকা কি পাশের ঘরে নেই' ? মা বললেন, 'কি জানি ? এই তো ফোনে কথা বলছিল শুনলাম'।  - 'খোকা, ও খোকা' ! বাবার ডাক বেশ কা...

তপনের ডায়েরি ৫ / ৫ আগস্ট ২০২১

তপনের ডায়েরি ৫ / ৫ আগস্ট ২০২১ হ্যাঁ, গতকাল সকালে ডাক্তার নিজেই ফোন করলেন বুবলুকে। বললেন আমার ব্রেন-এ একটা খুব ছোট্ট সাইজের মাংসপিন্ড গজিয়েছে, যেটিকে আমাদের খেয়ে ফেলা উদ্দেশ্য। কিন্তু আমি তো জানি যে আমার মাথা ঠিক কি পরিমাণ ঝামেলা অকারণে অন্যের মাথায় চাপিয়ে দিতে পারে ! তাই প্রসঙ্গত, ওই পিন্ড বা টিউমার এমন একটি স্থানে জায়গা নিয়েছে, তাকে সরিয়ে ফেলা মুশকিল। সুতরাং ঠিক হয়েছে এখন, তাকে দেখতে হবে।  আমি এই ৯ তারিখে ভর্তি হবো হিন্দুজা হাসপাতালে - ডাক্তার মিশ্র মানে ডঃ বসন্ত কুমার মিশ্র - নিজেই অপারেট করবেন। উনি ছাড়া ভারতবর্ষে খুব কম সার্জন রয়েছেন, যিনি নাকি এতো বড় অপারেশন-এ হাত দিতে পারেন।  এই সময়ের মধ্যে আর অন্য বলবার মতো কিছু ঘটে নি। চেনা-জানা সকলেরই ফোন আমাকে ঘিরে। তাদের শুধু বলছি, এমন এক টিউমার আমার মাথায় হয়েছে, সেটির খোঁজ চলছে চরম দ্রুততায় ও বিশেষ দক্ষতায়। পেলে জানানো হবে।  আমার মাকে নিয়ে খুবই চিন্তা। একা হয়ে পড়েছেন বড়। আমাকে হসপিটালে ভর্তি হতে হচ্ছে, এটা মা'য়ের একেবারে ভাবনা-চিন্তার উর্দ্ধে।  চলুক না   .......... 

তপনের ডায়েরি ৪ / 30-July-2021

তপনের ডায়েরি  ৪। ৩০শে জুলাই ২০২১ গতকাল হঠাৎ করে বোম্বে আসতে হলো। কারণটা বলছি - তার আগে বলি, বুবলু বারেবারেই শিরোর কথা বলতো। বলত, "বাবা, তুমি এলে শিরো-কে নিয়েই তোমার সময় কেটে যাবে। এতো মিষ্টি তোমায় কি বলব'। সত্যিই তাই। শিরো এমন একটা পুষ্যি, যে তার অনবদ্য আকার-প্রকারেই আপন করে নেবে আপনাকে।যাই হোক, খুব স্বাভাবিকভাবেই আজ সকাল থেকে ওর জন্যে মনটা কেমন যেন বিহ্বল হয়ে রইল। এর মধ্যে দেখি আমার চোখের একটু সমস্যা। কি রকম ? না, একটু যেন ঝাপসা দেখছি। সবে এসেছি বেঙ্গালুরু। এখনই এই বিষয় নিয়ে বুবলুকে বিব্রত করতে ইচ্ছে করছে না, তবুও বলতেই হলো। কারণ, এর উৎস কি বা কোথায়, তা জানাটা খুব জরুরি। গেলাম NIMHANS-এ - ন্যাশনাল ইন্সটিট্যুটে অফ মেন্টাল হেল্থ & নিউরোসায়েন্স। সেখানে তো এই পান্ডেমিক অবস্থাতেও তিল ধারণের জায়গা নেই।দেবতার মন্দিরে প্রবেশ করবার মতো করে লাইন দিয়ে পৌঁছলাম ডাক্তারের দরবারে। দেখলেন তাঁরা, বেশ মনোযোগ সহকারেই, তবে উত্তর পেতে তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে।  এদিকে, বুবলু একটুও অপেক্ষাতে নারাজ। বাবা দেখতে না পেলে কিছুতেই যে হবে না। আমার দৃষ্টির ওপরে ওর যে ...

তপনের ডায়েরি ৩ | 28 July 2021

তপনের ডায়েরি ৩ | 28 July 2021 ভাবছিলাম, আমার একটা ভুল ধারণার কথা। প্লেনে করে বেঙ্গালুরু আসতে আসতে ভাবছিলাম ওখানে পৌঁছে সময় কাটাবো কি করে ? কিন্তু এ আমার চিরকালের সৌভাগ্য, নিজের জায়গায় পৌঁছোবার পর ওই দুশ্চিতাটা আর মাথায় প্রশ্রয় পায় না। এবারেও কোন অন্যথা হোল না। বুবলুর ফ্ল্যাট HSR-এ, সুন্দর লোক্যালিটি।  ওর ফ্ল্যাটে যখন পৌঁছলাম তখন প্রায় অন্ধকার, তবু যেটুকু দেখলাম, তাতেই মন ভরে গেল। আর বুবলু একা থাকে বলে, ফ্ল্যাটে বাড়তি কিছু নেই যেটা অতিরিক্ত মনে হতে পারে। স্বপ্না  নিয়ে গেল মৈনাকদের বাড়ি ওই রাত্রেই। আলাপ হলো মৈনাকের মা কোয়েলির সঙ্গে; আর নিমেষে একাত্ম হলাম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ওদের পোষ্য 'শিরো'কে কাছে পেয়ে। Shih-tzu প্রজাতির এই পোষ্যটি যতটা সুন্দর, ততটা মিষ্টি। তার চিৎকারও যে এমন মধুর হতে পারে, আমার তেমন কোন ধারণাই ছিল না। অনেকটা রাত হলো বুবলুর ফ্ল্যাটে ফিরতে। অল্প বৃষ্টি হচ্ছে, এখন বর্ষাকাল। শির্শিরিনি হওয়ার মধ্যে বাড়ি এসে শুতে বেশি রাত আর করি নি। 

তপনের ডায়েরি ২ | 24 July 2021

তপনের ডায়েরি ২ । ২৪শে জুলাই ২০২১ এয়ারপোর্ট থেকে ফেরবার পথে বাবলু বলল, 'বাবা, রাস্তায় কোথাও দাঁড়িয়ে চা-জলখাবার খাচ্ছি না। কোবিদ-এ সেটা ঠিক হবে না। তাই না ? একদম সময়োপযোগী উপলব্ধি। বাড়িতে ফিরেই জলযোগের সে কি আয়োজন ! স্বপ্নার কথা কম, কাজ বেশি। এখন অন্তত। লুচি, আলু-চচ্চড়ি সহযোগে স্থানীয় মিষ্টি খেয়ে ভুলেই গেলাম যে সকালে কলকাতা ছিলাম। মা'র কথা মনে হলেই ভাবি, এখন আর এই মানুষটিকে নিয়ে কোথাও চলতে পারি না। প্রায় ৮৬ বছরে পা দেওয়া মায়ের মনের কাছে শত ইচ্ছে থাকলেও আর পায়ের কাছে এসে চলার আগ্রহ থেমেই যায়। তাই এই বিগত দুটো বছরে মা'কে বাড়িতে রেখে আসতে হয়, যেটা আমাদের চিরাচরিত ফ্যামিলি ট্র্যাডিশনের বিপক্ষে।  বাবলুর বন্ধু মৈনাক এই "ক্যাডেনজা" সোসিয়েটিতেই থাকে, অন্য একটা টাওয়ার-এ। তার মা কোয়েল স্বপ্নাকে বন্ধু হিসেবে বেশ কাছে পেয়েছে বুঝলাম, যখন স্বপ্না বলল,"চলো, তোমাকে মৈনাকদের বাড়িটা ঘুরিয়ে নিয়ে আসি। আর ওই বাড়িতে তোমার আকর্ষণ তো অপেক্ষা করে যাচ্ছে"। আকর্ষণের কথাটা কাল লিখব। এই দুপুর দুটো বাজল ঘড়িতে। চান করে খাওয়া-দাওয়া করি। 

তপনের ডায়েরি ১ / ২২-জুলাই-২০২১

  তপনের ডায়েরি ১ / ২২-জুলাই-২০২১

একটু এগিয়ে (কবিতা) by তপন বসু

Image
একটু এগিয়ে (কবিতা) এই সময়ের বুকে কি একটু আঘাত লেগেছে, অভিমানে ধাক্কা ? নতুন ভাইরাসে নিশ্চিহ্ন বসুন্ধরা, এ খবর এতোটাই পাক্কা  ? যত বলশালী প্রশ্নের বাণ  ততো তৎপর উত্তর - ভয়ের ধ্বজা নিপাত যাক, ভাইরাসকে বলি "ধুৎ তোর !" আমরা দেখেছি নতুন জাপান  বিশ্বযুদ্ধের পরে  আজ, মানব শক্তি বিলীন হবে, একদিনের ওই জ্বরে ? একজন প্রাণী, একটা প্রাণ  শুধু সেটাই তো নয় সত্যের প্রকাশ ! মৃত্যু এক,  শপথ   অনেক - চেতনার শৃঙ্খলে বাড়ে বিশ্বাস।  স্থবির পৃথিবী বাড়িতে বসে  সুযোগ দিয়েছে ভাবার  কি ভাবে লড়বে আগামী জীবন  যদি মহামারী আসে আবার ? এমন যুদ্ধ কল্পনাহীন  নাগরিক অস্ত্র ছাড়াই  অণু-পরমাণু-জীবাণুর সাথে  যমে-মানুষে লড়াই।  কলেরা-হাম-বসন্ত হেরেছে  টিকা আবিষ্কারের শেষে  করোনারও আর দাঁত ফুটবে না  জিতবে না অক্লেশে।  ঘড়ি যদিও বা থমকে দাঁড়ায় সময় থামে না - প্রতি আবিষ্কারের পূর্বরাগে, নিশ্চিত প্রসব-যন্ত্রণা।  যন্ত্রণা দিয়ে একটা বছরে   শিকলে বেঁধেছ ত্রাস - আর ক'টা দিন সবুর করো  আসছে.....

শানওয়ালা (কবিতা) by তপন বসু

Image
শানওয়ালা (কবিতা) 'শান দেবেন নাকি ? ছুরি, কাঁচি, বঁটিতে শান ? দেবেন নাকি' ? ......... শহরের মূল রাস্তা থেকে আমাদের পাড়ার মোড়ে হাঁক দিয়ে যাচ্ছে শানওয়ালা।  আমি তাকে ডাকলাম ......... ও শানওয়ালা ! আমার বাড়ির যন্ত্রে আরেকটু শান চাই - আলু, পটল, পাকা এঁচোড় - যারা আমার থেকে দুর্বল ও শীর্ণ  ধারালো ছুরির ভয় দেখিয়ে এসো, ওদের বশ্যতা মানাই।  বয়স যে আমার শক্তি কমিয়েছে - ও শানওয়ালা ! আমার অস্ত্র ধারালো রেখো  - চেতনাহীন সব্জিমণ্ডলীর খাদক হয়েই পুষ্ট থাকি - নইলে আমার যে কিছুই করার নেই, তুমি কি আমাকে তেমনই নিস্পৃহ দেখো ?  শানওয়ালা, তোমার চাকায় শক্তি আছে তুমি বিক্রি করো ভয়  - আস্ফালনকে স্ফীত করে  দেখাও মধ্যবিত্তের জয়।  তোমার কাছে আমিও কিনছি ভয় অন্যকে দেখাব বলে, এও জানি আমি ক্রমশঃ ফুরোচ্ছি  অনেক না ভাল লাগা নিয়ে, তলে তলে।  ও শানওয়ালা ! তোমার কোন বন্ধু আছে ? যে দিতে পারে আমার ইচ্ছে-মগজে শান ? আমি যে শুনছি আগামীর ডাক - বুদ্ধিজীবী মানুষের আহ্বান।  ধারালো অস্ত্র বেজায় ছ...

শুভ-পরিণয় (কবিতা) by তপন বসু

Image
শুভ-পরিণয় (কবিতা) কথা ছিল না, গান ছিল  সুর ছিল বড়ো একা - ভোরের বেলা জানলা খুলতেই  সেদিন, বাণীর সঙ্গে দেখা।  প্রবাহ বড়ই খামখেয়ালি  লীলা বোঝা বেশ দায়  কাল তোমার ওই বন্ধু সুজন  আজ, আমার আঙিনায়।  বিভাজনগুলো অস্পষ্ট  তবু, ধরা দেয় অনুভবে - ভাবি, প্রাণের পরশে পরশপাথর  গান শোনাবে কবে ? ভাবনা-ভারেই হঠাৎ দেখা  অদেখার প্রহর শেষে - দেখি, গানের খেয়া পাড়ি দিয়েছে সব পেয়েছির দেশে।  খোলা আকাশেই গানের বোধি  কোমল-কড়ির দৃষ্টি - বাঁধন ছিঁড়েই বাঁধা যদি পড়ে  আসন্ন ......  নতুন গানের সৃষ্টি ।। তপন বসু / ২রা মে ২০২১

ঘড়ি (কবিতা) by তপন বসু

Image
ঘড়ি (কবিতা) ঘড়িটা হঠাৎ দেখলাম থেমে গেছে - আজ সকালে ঘুম ভেঙেছে বেলায়, ছুটির দিনের আলস্যি নিয়ে - দেখলাম - ঘড়িটা থেমে রয়েছে।  থেমে গেছে কাল রাতে ; এখনও আমার ঘুম লেগে আছে চোখে - কাল রাতে বিনিদ্র ছিলাম  একটা ফোনের প্রতীক্ষায় - যাকে অভ্যন্তরে বেঁধে রাখি ভালোবাসার শিকলে  তার ফোন - সে আমার বন্ধু না প্রেয়সী জানি না ; শুধু জানি আমার সংগীত ও সাহিত্য পিপাসু মনের  সে দোসর - যেখানে আমার লেখনী, সুরের চরাচর,  মানসিক অভিব্যক্তির অনাবিল উদ্ভাস।  তার চোখের তারার রং পরিবর্তন - আত্মতৃপ্তির গরিমা অনুভব করি,  ফোনের এপ্রান্তে - ............কিন্তু ফোনটা আসেনি।  যতক্ষণ ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম - মগজের উচ্চসূত্র  নির্গত করেছে নতুন কবিতা, নতুন গল্পের আরও নব্যতর প্লট, স্বরবর্ণ-ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণময় ছুটোছুটি  ক্লান্ত করেছে আমার আকাঙ্খাকে -  ঘুমিয়ে পড়েছি কখন - ...........ফোনটা বাজেনি।  আজ, এইমাত্র ............. ব্যাটারী বদলাতে গিয়ে দেখি, ঘড়িটা আবার চলতে শুরু করেছে - ঠিক ততটা পিছিয়ে থেকে, যতটা রাত আমি জেগে ছিলাম।।  তপন বসু / 5.6.2021 Image Couresy > unspla...

উপসংহার (কবিতা) by তপন বসু

Image
উপসংহার (কবিতা) রেললাইনে মাথা রাখা যায় নিশ্চিন্তে - মাথা কাটা যাবার ভয় নেই লজ্জায়-বেদনায়                                     রেললাইন আজ মুখ ঢেকেছে ঘাসে।  ভ্রমণ নেই দর্শন নেই - গতিতে খুশির বর্ষণ নেই                                     জীবন স্থবির অতি মহামারীর ত্রাসে।। কারও পরিবারে মৃত্যু-শূন্যতা                                          কোন দম্পতির শিয়রে নতুন প্রাণ - কোন হাসপাতালে অবহেলায় শায়িত রুগী                                          ভাষাহীন চোখে অপেক্ষার বলিদান।। চাকরির চিঠি হাতে পেয়েছিল অর্জুন ;                         ...

পাগল (কবিতা) by তপন বসু

পাগল (কবিতা) । তপন বসু  এলোমেলো শুধু পথ চলা  আর নিজের সাথেই কথা বলা  এ পাগল ঢং জানে না  পাগল বড়ই খোলামেলা।  এই খোকা, তুই এখানে কেন ? স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখা ! তুই না জাতির ভবিষ্যৎ ? খোকা, তুই ছাড়া তোর মা যে একা ! ভুল রাস্তায় পা ফেলা ছেলে  কি ভেবে ফেরে স্কুলের পথে  এ পাগল সং সাজে না - শাসন করে শক্ত হাতে।  আজ যত সব পাগলগুলো  এক হয়েছে নীতির দ্বারে  রাজনীতি আর অর্থনীতি  না বুঝেই বিলোচ্ছে অকাতরে।  সেই পাগলের খুব প্রয়োজন  যার কিছুতেই আসক্তি নেই  স্বার্থ ছাড়াই লোকের মাঝে স্বপ্ন বিলোয় এই সমাজেই।  দূর থেকে শুনি বাউল কণ্ঠ  'আমি কোথায় পাব তারে' বাউল কবি  পাগল এবার - ওই তো ! বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।  তপন বসু / ২৪ এপ্রিল ২০২১

"বৃষ্টি ভিতর ঘরে" | কবিতা by তপন বসু | Bristi Bhitor Ghore (Poem)

Image
কবিতা "বৃষ্টি ভিতর ঘরে" বৃষ্টি পড়ছে মনের ঘরে          ভিজছে ভালবাসা, বাইরে শরীর ক্ষত-বিক্ষত         দোদুল্যমান আশা। অনেক স্বপ্ন শরীরে পুড়েছে          রোদ-আকাশের গায়ে, তবুও শরীর বেঁচে আছে          মনের আঙ্গিনায়। সংসারগামী দ্বিপদ কাঠামো  ঠিক-ভুলের দুই প্রান্তে, অনেক ইচ্ছে না-ফোটা ফুলে    ঝরেছে একলা বসন্তে। মন ও শরীর যখনই পাঠিয়েছে  বার্তা তাদের সংসারে  মধ্যমজান বিধিনিষেধ   তা' উড়িয়ে দিয়েছে নির্বিকারে।  আজ বৃষ্টি অন্যরকম          মন ভেজাতে চায়। শরীর-চাদর সজীব হয়েছে  প্রকৃতির, স্পর্শ উষ্ণতায়।  অঝোর ধারা আবার করে             সবুজ করেছে মন - পিলসুজে তেল কম পড়লেও  দেখি, আলোর আয়োজন।  নতুন সূর্য,ভোরের আলো  আবার করে লাগছে ভালো  বৃষ্টি-স্নানে স্নিগ্ধ সকাল  নিভিয়ে দিয়েছে অপ্রত্যাশিত কালো।...

ভুল । কবিতা by তপন বসু

Image
  ভুল । কবিতা  স্মৃতির পথে বাউল সাজবার জানি না কি প্রয়োজন ? তবু, স্মৃতিকে ঘিরেই কতো রোমাঞ্চ, কতো না শিহরণ।     এই তো সেদিনের কথা - বাবার মুখে নেবুলাইজারের নল, বুকে নকল হৃদযন্ত্র  মৃত্যুশয্যায় ইঙ্গিতে বোঝালেন, 'শান্তি যদি পেতে চাস, কইবি কম শুনবি বেশি  দেখবি, সেটাই সুখে বাঁচার আসল মন্ত্র'।  কথাগুলোর অনুরণন ছায়া হয়ে আনাচে কানাচে, মৃত্যুর পদধ্বনি স্পষ্ট হলো, চলে গেলেন তিনি মেয়াদশেষে - আমি আজও আছি, বেঁচে ........ সভ্যের হাতে অসভ্যতার কালো দেশে।  আমার আগামী পৃথিবী স্বচ্ছ, হলেও বা ভারি সুন্দর পুরোনো আনন্দে, নতুন অভিমানে আজও বুকে জমে কান্না  অমৃতের পেয়ালায় বিষের চুমুক - এই অভ্যেসে, মন যে আর এগোতে চায় না।। তপন বসু / ১লা বৈশাখ ১৯২৮ (15th April 2021) / কলকাতা  পাদটীকা :- নির্বাচনের বাজারে স্বার্থলোভীর প্রচারে স্বার্থত্যাগীরা নিষ্পেষিত। সমাজব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রাজদণ্ডের হাতে। তবুও আমার স্থির বিশ্বাস, একদিন সত্যের জয় হবে। মানুষের মনের রঙ আর পৃথিবীর রঙ ...

সেদিন চৈত্রমাস । কবিতা || Sedin ChoitraMas (Poetry)

Image
সেদিন চৈত্রমাস । কবিতা তখন আমি চব্বিশ কি পঁচিশ - ডাক পড়ল প্রবাসে, সুদূর আমেরিকায়। বাঙালিরা আমার গান শুনতে চায় আমার গান মানে রবিঠাকুর, আর তার পরবর্তী সময়ের গান - সবটাই অন্যের থেকে ধার নেওয়া। তবু, আমার সেই গানেই 'তুমি' মন্ত্রমুগ্ধ ! তুমি থাকতে আমাদের ঠিক পাশের পাড়ায় - আমার বাড়ির সামনে দিয়েই  তোমার স্কুলের রাস্তা। বন্ধু ছিলাম আমরা  মিলেছিলাম আপন হতেই, খেলার ছলে, গানের টানে। প্রতিদিন সকালে স্কুলের পথে  আমাদের দোতলার বারান্দার দিকে - তোমার চোখ পড়ত ; একদিন আমার চোখে পড়ে গেল।  তৈরী হল নতুন অভ্যেস - সকাল ছ'টায় চোখ মেলে জেগে ওঠা, চোখে চোখ রাখব বলে।  তারপর চলতো টানা রেওয়াজ - বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে  খেলার মাঠে ; তুমিও আসতে - তোমার বান্ধবীদের সাথে নিয়ে। দুটি পরিবারই জানত  আমরা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সুখ-দুঃখের সমব্যাথী ; কোন আড়াল ছিল না একে অপরের কাছে - আত্মপ্রকাশে। বুঝতাম, বন্ধুত্বের বাইরেও  আমার গান তোমায় টানে। সেই গান নিয়ে আজ আমি প্রবাসের পথে; আমার এমন সৌভাগ্যে  তোমার আকুলতা - আমায় সারা আ...

কাব্যগীতি | এসো একসাথে পথ হাঁটি

Image
  -: কাব্যগীতি :- রচনা : তপন বসু এসো একসাথে পথ হাঁটি  চলো ছুঁই পৃথিবীর মাটি মুখোমুখি বসে আমরা দু'জন  জীবনের ছবি আঁকি ।। দেখো আকাশ রঙে নীল ঢেলেছে, তারাদের চোখে আলো - মনটা যদি সবুজ থাকে  সবই লাগে ভালো           অচেনা প্রেমে জীবন বাঁধি            অদেখাকে খুঁজে দেখি - চেনা চেনা স্রোতে পা না বাড়িয়ে  অন্য স্বপ্ন আঁকি ।। তুমি যদি শেষের কবি আমার কিসে ভয়  আমার লেখনী তোমার হাতে হোক না কাব্যময় । তোমার অপরূপ এই রাজসমারহে  আমিও অংশীদার বেহিসেবী মন বড় প্রয়োজন  সময় পথে নামার পথভোলাকে পথেই রেখো,  যেটুকু জীবন বাকি চেনা প্রগতির ছন্দ পেরিয়ে নতুন স্বপ্ন আঁকি ।। বাংলা ভাষা দিবস উপলক্ষে নতুন রচনা  © tapanbasu  kolkata, the 21st February 2021 image courtesy : fulbright

সবুজদ্বীপের ডায়েরি । আন্দামান পর্ব-১৫ । শেষ পর্ব

Image
  সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-১৫। শেষ পর্ব