Posts

Showing posts with the label travelogue

সবুজদ্বীপের ডায়েরি । আন্দামান পর্ব-১৫ । শেষ পর্ব

Image
  সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-১৫। শেষ পর্ব 

কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ৫ (১০ই জানুয়ারী ২০২১) | Kanchanjanghar Diary Ep#5

Image
কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি-পর্ব ৫ (১০ই জানুয়ারী ২০২১ - রাত ১০টা) 'এবার আমার ঘরে ফেরার গান পর্যটনের সুখের ছবি - রেখায় আঁকুক বাউল কবি -  বেড়ানোর সুখ সাঙ্গ করে,  স্মৃতির পাতা বন্ধ করে ; নিজের বাসায়  ভালোবাসায়,  আপন আনন্দ-স্নান'। এবারে আর ফ্লাইট লেট্ করে নি।  তল্পিতল্পা নিয়ে  বাড়ি ঢুকলাম রাত ৮টা নাগাদ। বেড়ানোর আনন্দ আর ঘরে ফেরার আনন্দে একাকার হয়ে বেড়ানোর গল্প শুনতে অতি আগ্রহী মা'য়ের সঙ্গে বাহির-মহলের  গল্পে মশগুল হলাম। সেই গল্প করতে করতেই লিখতে বসলাম আজকের ডায়েরি - আমাদের 'কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি'র ৫ম ও অন্তিম পর্ব। জানুয়ারীর ৫-এ আমরা পৌঁছেছিলাম দার্জিলিং। সেখানে ঠিকই ছিল যদি weather ঠিক থাকে, তাহলে সকালের ব্রেকফাস্ট সেরেই ম্যালের উদ্দেশে রওনা দেব। কপাল এতো ভাল, যে তিনদিন দার্জিলিং-এ ছিলাম, বেশির ভাগ সময়টাই আকাশ ছিল পরিষ্কার। কাঞ্চনজঙ্ঘার গল্প ও ছবি তো আগেই শেয়ার করেছি। তাই আমরা পায়ে হেঁটে (যদিও ম্যাল-এ হন্টন ছাড়া গতি নেই) হোটেল থেকে ম্যালের পথ পাড়ি দিয়েছি দুটো দিনই। হাঁটাপথের বাঁহাতে ধাপে ধাপে রাস্তা নেমে তৈরী ক...

কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ৩ (৪ঠা জানুয়ারী ২০২১

Image
কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ৩ (৪ঠা জানুয়ারী ২০২১ - সন্ধে ৬টা) আজ সারাটা দিন দুরন্ত কাটল। ঘুম থেকে উঠেই তো চোখ গেল পাহাড়ের দিকে, সেখানে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান নয়। স্বপ্না একটু বিমর্ষ হয়ে মন্তব্য করল, 'ঐটুকু সাদা মেঘের কি ক্ষমতা ! এতো বড়ো  কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঢেকে দিল'। এও এক অপূর্ব খেলা প্রকৃতির - যদি না জানা থাকত যে,  কাঞ্চনজঙ্ঘা ওখানে দেখা যায়, তাহলে ওই নীল গালিচায় সাদা মেঘটাকেই অপরূপ মনে হতো। যত রাগ গিয়ে পড়লো ওই মেঘের উপর। যতটা না আমার জন্যে, তার চেয়ে অনেক  বেশি স্বপ্নার  ম্লান  মুখটা  দেখে।  আমাকে যখন কেউ জিজ্ঞেস করে, পাহাড় না সমুদ্র - কোনটা ভাল লাগে ? মনে যা আসে তাই উত্তর দিয়ে দিই। আসলে কোন সময় যে কাকে ভালো লাগবে, তা আমার তো জানা নেই।  এবারে যেমন প্রতিটি মুভমেন্টই ভাল লাগছে। তা যে অনেকটা কোবিদের বিষদৃষ্টিতে বন্দিদশার কারণে তা বুঝলেও, এই শীতের পাহাড়কে বড়ো আপনজন মনে হচ্ছে। চায়ের টেবিলে ঠিক হলো আমরা আজ একটা গাড়ি নিয়ে সাইট-সিইং-এ বেরুবো। কাল যা অভিজ্ঞতা, তাতে পদব্রজে বেশিদূর যাবার মোহ আর আমাদের কারোর মধ্যেই নেই। শুধুমাত্র কুটু...

কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ২ (৩রা জানুয়ারী ২০২১ - রাত ৯টা)

Image
  কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ২ (৩রা জানুয়ারী ২০২১ - রাত ৯টা) আজ সকালে ঘুমটা আচমকা ভাঙলো মৃদু কোলাহলের শব্দে। স্বপ্না মুখরিত হোটেল-ঘরের জানলা দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখতে পেয়ে। ডুপ্লে টাইপের সুইটে ওপরের ঘরে  শুয়েছিলাম  আমি আর প্রণবদা । প্রণবদা দেখি জানলার পর্দা সরিয়ে বাইরের আকাশে ভাবুক চিবুকে স্থির রয়েছে। আমিও সেই দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখি ঝলমল করছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। হোটেলের এই ঘরের বারান্দার সামনে দিয়ে চোখের দৃষ্টি  সবুজ এক ভ্যালি  পার করে নিয়ে যেতে হবে সামনের পাহাড়ে। ঠিক যার মাথার ওপর দিয়ে আরো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে  কাঞ্চনজঙ্ঘা - বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। আকাশ পরিষ্কার নীল, বনরাজি সবুজে সবুজ।  ঘড়িতে দেখলাম সাড়ে সাতটা বাজে। চায়ের কাপ নিয়ে ঘরের সোফা আর বিছানায় আমরা সবাই লেপের মধ্যে পা ডুবিয়ে আয়েস করে বসলাম - কাঁচের জানলা দিয়ে চোখ খোলা আকাশপথে, যেখানে প্রায় একশো আশি ডিগ্রি জুড়ে সবুজ উপত্যকা, ব্যাকড্রপে হিমালয়ের ভুবন-ভোলানো ল্যান্ডস্কেপ।  আমাদের এই হোটেলটা ইন্টারনেট দেখে দেখে কুটু আর বুবলু  পরামর্শ করে বুক করেছে। ব্রিটিশ ভদ্রলোক...

কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ১ (২রা জানুয়ারী ২০২১)

Image
কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ১ (২রা জানুয়ারী ২০২১ - রাত ৮টা) ইংরেজী'র ২০২০ সাল অবশেষে পার হল। তবে জানা নেই দুঃসময় পেরিয়ে এলাম কিনা। মন খারাপের বছর শেষে হঠাৎ একদিন বুবলু (আমার পুত্র) বললো - বাবা, দার্জিলিং যাবে ? যেখানে রোজ বাজার যাব কিনা নিশ্চিত নই, সেখানে দার্জিলিং যাওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা বুঝে উঠতে না উঠতেই বুবলু আবারও বলল, 'কুটুদাদা 'ধরেছে দার্জিলিং বেড়াতে যাবে'। এরা এখন বড় হয়েছে, তাই 'বায়না ধরেছে' বলা গেল না। আসলে বুবলুও গত দু'বছর ধরে দার্জিলিং বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করছে, নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয় নি। আমরা পরিবারের সকলেই আর পাঁচজনের মতো ঘর-বন্দি। তাই এই খাঁচা থেকে বেরোতে মন প্রবল উৎসাহ যোগাচ্ছে। কুটু হল আমার স্ত্রী স্বপ্নার দিদির ছেলে। তার আর বুবলুর প্রবল নেশা দেশভ্রমণে। এরাও গত ন'মাস নিজের কাজ ছেড়ে ঘরের কোনায় একটা টেবিল-চেয়ার-ল্যাপটপে আবদ্ধ। সুতরাং কারোরই 'হ্যাঁ' বলতে বেশি ভাবনা-চিন্তা করতে হল না। কুটুই সব আয়োজনের দায়িত্ব নিল। তারিখ ঠিক হল জানুয়ারী'র দুই - ঐদিন যাত্রা শুরু। প্যান্ডেমিক পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে আপাততঃ দুই পরিবারের ছ...

সবুজদ্বীপের ডায়েরি (আন্দামান পর্ব-১২) | Sobujdweeper Diary Ep#12

Image
সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-১২ সবুজদ্বীপের ডায়েরি । 29th February 2020  । রাত  ১০ টা ......... জারোয়াদের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে Lime Stone Cave দেখে স্পিড বোটে করে বারাটাং দ্বীপের মূল সীমানায় পৌঁছলাম। গাড়ি অপেক্ষাই করছিল, আমাদের নিয়ে এল খুব ছিমছাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি হোটেলে লাঞ্চ-এর জন্য। প্রায় দুপুর দু'টো বাজতে চলল। তিনটের মধ্যে আমাদের রঙ্গত জেটি পার হতে হবে - নইলে আজকের মতো ফেরা বন্ধ। এই ট্রপিকাল রেইন ফরেস্ট বা রিসার্ভ ফরেস্ট, যেটা আদতে জারোয়াদের বাসভূমি, তার দু'প্রান্তে প্রবেশের বেশ কড়াকড়ি। দিনে মাত্র চারবার এর অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যায় সঠিক পরিচয়পত্র অনুমোদন-সাপেক্ষে। সকাল ছ'টা, বেলা ন'টা, দুপুর বারো'টা ও বিকেল তিন'টে - এই চারবার দু'প্রান্তের মূল দরজা খোলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী দিনে একশটির বেশি গাড়ি বা যানবাহনের ঢোকবার অনুমতি নেই এই অঞ্চলে।  আমরা সকলেরই দ্বিপ্রাহরিক আহার যথাসময়ে সাঙ্গ করে নিয়মের বেড়াজাল আরেকবারের মতো ডিঙিয়ে বাসে চড়লাম হোটেলে ফেরার উদ্দেশ্য নিয়ে। গতরাতে কারোরই প্রায় ঘুম হয়নি - বাস ছাড়তেই মোটামুটি সকলেই, মানে আমাদে...

সবুজদ্বীপের ডায়েরি (আন্দামান পর্ব-১১) | Sobujdweeper Diary Ep#11

Image
সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-১১ সবুজদ্বীপের ডায়েরি । 29th February 2020  । সকাল ৭ টা ......... বলছিলাম গুহা-পথের রোমাঞ্চের কথা। গাইড তো আমাদের আর এগোতে বারণ করল। আমরা পুরো দল তার কথায় মোমের পুতুল হলাম। সে দেখিয়ে দিল কিভাবে শরীরকে নানা কসরতে এই গুহার মধ্যে প্রবেশ করাতে হবে। যেমন হয় সাধারণতঃ - এই গুহারও প্রবেশপথ বেশ সরু। নানা দেহভঙ্গিমায় ভিতরে ঢুকতে হবে, যেটা আমাদের দলের প্রাচীন সদস্যদের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ইচ্ছেশক্তির জোর অনেক বেশি। ইতিমধ্যেই কয়েকজন হাত-পা ছুঁড়তে শুরু করেছেন, জমে থাকা কলিজা নিয়ে জমাট বাঁধা Limestone Cave-এ ঢুকবেন বলে।  কিছু না কিছু শারীরিক বিভঙ্গে প্রায় সকলেই প্রবেশ করতে পারলাম গুহার অভ্যন্তরে - মুখে বিজয়ীর গর্বিত আভা - যদিও তা উপলব্ধি করা গেল না সেভাবে - কারণ ভেতরটা খুব অন্ধকার। স্যাঁতস্যাতে গন্ধময় এর অন্দরমহল। আসলে আন্দামানের পুরো ভ্রমণটাই একটা ভিজ্যুয়াল ট্রিটমেন্ট। প্রকৃতির আপন খেয়ালে গড়ে ওঠা অপরূপ সৌন্দর্যের অনির্বাণ দৃশ্যায়ন। সম্মোহিত হই, মনে হয় এই বিস্ময়-সৃষ্টি জীবন্ত হয়ে আমার চোখের সামনে যেন  নৃত্যভঙ্গিম...

সবুজদ্বীপের ডায়েরি (আন্দামান পর্ব-১০) | Sobujdweeper Diary Ep#10

Image
সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-১০ সবুজদ্বীপের ডায়েরি । 29th February 2020  । ভোর  ৫ টা ........ সঞ্জয় 'বেড টি' দিতে এল। ঘুমটা বেশ জব্বর হয়েছে। চায়ের কাপে  চুমুক দিতে দিতে মনে হল কালকের বাকি অভিজ্ঞতাটুকু লিখেই ফেলি। আগামীকালই তো ফেরার পালা। আজকের বেড়ানোর কাহিনীও তো লিখে ফেলতে হবে এরই মধ্যে। ডায়েরি নিয়ে বসলাম.................   ডানদিকে জারোয়াদের দ্বীপ আর বাঁহাতে ম্যানগ্রোভের জঙ্গল পার করে ছোট স্পিড বোট একটা খাঁড়ির মধ্যে নোঙ্গর করল। স্পিড বোট থেকে নেমে পা রাখতে হবে একটু উঁচু গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরী সিঁড়ির ধাপে। ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয়েছে দু'প্রান্তে বাঁধা সরু দড়ি ও কাঠের তৈরী একটা সাঁকো। নিচে কুলকুল করে বয়ে চলা backwater-এর ছোট্ট বিভাজিকা। এলোমেলো পাথর, নুয়ে পড়া গাছের সবুজ কলি। আর অদৃশ্য পাখির কল-কাকলি। মনে হচ্ছে সাঁকোতেই দাঁড়াই কিছুক্ষণ। প্রকৃতি এতো অপরূপ কেমন করে হয় ! মোবাইল ক্যামেরায় বেশ কয়েকটি বাহারি ছবি তুলে সাঁকো পেরিয়ে সামনের সমতলে পড়লাম। বাঁদিকে বোর্ডের লেখায় চোখ পড়ল - ১.২ কিমি দূরত্বে Lime Stone Cave - আমাদের আজকের দ্রষ্টব্য। ব...

সবুজদ্বীপের ডায়েরি (আন্দামান পর্ব-৯) | Sobujdweeper Diary Ep#9

Image
সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-৯ সবুজদ্বীপের ডায়েরি । 28th February 2020  । রাত  ১১ টা ........ আশঙ্কা যেখানে অমূলক, দুশ্চিন্তা সেখানে অহেতুক যন্ত্রণার উৎস। সেই ব্যামোতেই আমাদের বেশ কয়েকজনের রাতে ভাল করে ঘুমই হলো না । সবাই ঘুম থেকে ও বাসে সময়মত উঠতে পারব কিনা, এই ছিল দুশ্চিন্তার প্রধান হেতু। এরপরে আবার ৪৭ কিলোমিটার রেইন ফরেস্টের মধ্যে দিয়ে পথ পেরোনো - সব মিলিয়ে উত্তেজনার পারদ মধ্য রাতের হালকা ঠান্ডাতেও উর্দ্ধগামী।  দেখলাম, কুন্ডুর স্পেশাল নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের দলের প্রত্যেকটা পরিবারই রাত দেড়টার অনেক আগেই লবিতে উপস্থিত। শৃঙ্খলার সঠিক অনুসরণের কারণে তাদের হাবে-ভাবে দিগ্বিজয়ের অনুচ্চারিত আভাস। বাস ছাড়ল যথাসময়ে পৌনে দুটোয়। রাতের আন্দামান একদম শুনশান - হাতে গোনা কয়েকটা গাড়ির হেডলাইট চোখের ওপর দিয়ে ক্ষণিকের চমক জাগিয়ে গেল। আমাদের বাস সাউথ আন্দামান ছেড়ে প্রথমবারের জন্যে এগিয়ে চলল মধ্য ও উত্তর আন্দামানের দিকে। প্রায় সাতচল্লিশ কিলোমিটার পথ পার হতে হবে ট্রপিকাল রেইন ফরেস্টের মধ্যে দিয়ে, যেটা নাকি পুরোটাই আন্দামানের সবচেয়ে পুর...