Posts

Showing posts with the label ektu bhebe dekhun

একটু ভেবে দেখুন-পর্ব ১১ (ডাক্তার) | Ektu Bhebe Dekhun Ep#11 (Doctor)

Image
একটু ভেবে দেখুন পর্ব ১১ আজকের পর্ব - ডাক্তার  " কত না দেশ-বিদেশ ঘুরে, অনেক যুদ্ধ জয় করে, তবেই না হয়েছো তুমি 'ডাক্তার' - আমাদের বাণিজ্যে মা লক্ষ্মী এলেও,  স্বীকৃতিতে ধন্য হলেও, পাই কি ? কাছের-দূরের নির্বিশেষে - আকুল  কোনও ডাক তার ?  এমনি জীবিকা বেছে নিয়েছ, 'বন্ধু'  দিন-রাতের সেবাধর্মে,  সময়-ঘুমে ফাঁকি - এ জীবিকা জীবন চেনায়, তাই  আর পাঁচটা কর্ম জীবন - চেনা রাস্তায় স্বজন-সুজন,  এরা সকল আর শিক্ষামহল -  রইল তারা বাকি ; এঁদের জন্যে শ্রদ্ধা রেখে   তোমার প্রতি অসীম গুরুত্বে - তোমাকেই মাথায় তুলে রাখি"।  প্রিয় ডাক্তার, তুমি ও তোমার সঙ্গে দিবারাত্র লড়াইয়ে সঙ্গী সমস্ত সহযোগীদের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এই লেখার গোড়াতেই। আজ এই পৃথিবী ছেয়ে গেছে রোগ আর রোগীতে। প্রতিনিয়ত তোমরা তোমাদের প্রজ্ঞা-শক্তি আর নতুন ওষুধে মারণ-রোগকে জয় করছ, আবার প্রায়শঃই হার মানছো প্রাণঘাতী কোন জীবাণুর আকস্মিক আত্মপ্রকাশে। তবু, তবু ...... তোমাদের যুদ্ধে কোন বিশ্রাম নেই। তোমাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি না আম...

একটু ভেবে দেখুন পর্ব ১০ (দূরত্ববিধি) Ektu Bhebe Dekhun Ep#10

Image
একটু ভেবে দেখুন পর্ব ১০ আজকের পর্ব - দূরত্ববিধি 'বিহেভিয়ারাল সায়েন্স' - এই বিষয়টি আমার কাছে বেশ আকর্ষণীয়।  আজ অতিমারির বন্দিদশায় কেন জানি না মালুম হচ্ছে, আমাদের মস্তিষ্কে  'বিহেভিয়ারাল সায়েন্স'-এর যে সমীকরণ কাজ ক রে , তা বোধ  হয় লঙ্ঘিত হচ্ছে। আমার এক বন্ধু বলছিলেন, 'আজকাল খবরের কাগজ পড়তেও যেন ভীতি এসে গেছে। সেই একই ...... কতজন আক্রান্ত, আর মৃত্যুই বা কত ? এরপর স্বামী-স্ত্রীতে অঙ্কের খেলা, বিশ্বে Mortality Rate কি ? ভারত সেখানে কতটা এগিয়ে বা পিছিয়ে ?  আমার চেতনা বলে, আমাদের মনে বোধ হয় একটু বেশিই ভয় ঢুকে পড়েছে। আজ থেকে কয়েক মাস আগেও, ঘরের অভ্যন্তরে একেবারে নির্বান্ধব বন্দি-জীবনে আমরা কেউই অভ্যস্ত ছিলাম না। অথচ, আজ বিশেষ প্রয়োজনেও অতি কাছের মানুষকে ঘরে ঢোকবার অনুমতি দিতে সংকোচ বোধ করছি। উল্টোদিকে, সেই কাছের মানুষটিও অতি-সাবধানী হতে গিয়ে তাঁর খোলা মনের উৎসাহী ব্যবহারেও যতি টেনে দিচ্ছেন। দূরত্ব বাড়ছে আপনা হতে। আমাদের অনুভূতিগুলোও ম্রিয়মান হয়ে পড়ছে অব্যবহারে । নইলে প্রতিবেশীর নিছক জ্বর হওয়ার সংবাদেই  তাকে গ্রহণযোগ্যতার  ত্রিসীম...

একটু ভেবে দেখুন(পর্ব ৯)-ট্রাফিক সিগন্যাল | Ektu Bhebe Dekhun Ep#9

Image
একটু ভেবে দেখুন পর্ব ৯ আজকের পর্ব - ট্রাফিক সিগন্যাল  আমি দাঁড়িয়ে আছি ৪/৫টা গাড়ির পিছনে, ট্রাফিক সিগন্যালে। ঠিক যেখান থেকে পাতিপুকুর মিল্ক কলোনি হয়ে সিগন্যাল পেরিয়ে ডানদিকে মোড় ঘুরবো। ওই রাস্তায় একবার ঢুকে পড়তে পারলেই পাইকপাড়া, নর্দার্ণ এভিনিউয়ের ভিতরের রাস্তা ধরে বরানগর পৌঁছতে আর বেশিক্ষণ লাগবে না। অফিস থেকে ফিরছি, কাজেই সারাদিনের ক্লান্তির অবসান ওই বাড়ির অভ্যন্তরেই। বিকেল গড়িয়ে সবে সন্ধ্যে নামছে - রাস্তার আলোগুলো জ্বলতে শুরু করেছে একটা একটা করে। ওমা ! ডানদিকে ঘুরেই যেই না অর্ধেকটা গেছি, সবুজ আলো হলুদ হয়ে তিন সেকেন্ডে লাল। আগের গাড়ি গতি না বাড়ানোয় আমিও তার পিছনে মাঝ রাস্তায় - 'ন যযৌ, ন তস্থৌ' অবস্থা। হঠাৎ সেখানে মূর্তিমান এক ছায়ামূর্তির উদয় হলো, সূর্যের পড়ন্ত আলোয় দেখলাম, তিনি একজন ট্রাফিক গার্ড এবং গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ইশারায় রাস্তার বাঁদিকে আমার গাড়িটাকে পার্ক করতে বললেন। গাড়ি আমি নিজেই  ড্রাইভ  করছিলাম এবং বুঝতে একটুও অসুবিধে হলো না যে এ ওই আলোর খেলা। আগেও বেশ কয়েকবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, সুতরাং এখন গা ...

একটু ভেবে দেখুন (পর্ব ৮)-বলি, হচ্ছেটা কি | Ektu Bhebe Dekhun Ep#8

Image
একটু ভেবে দেখুন পর্ব ৮ আজকের পর্ব - বলি, হচ্ছেটা কি ? বয়স্কা মা তাঁর কিশোর পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুয়ারে অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুয়ারে দুয়ারে পুত্রের জীবন ভিক্ষা করছেন। চার ঘন্টা গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে জীবনের দীপ জ্বালিয়ে রাখতে সবাই পারে না। কিশোর ছেলেটিও পারলো না। নিভে গেল তার ঝরঝরে তাজা জীবনের প্রদীপ। মুছে গেল মা'র চোখে ছেলের ভবিষ্যতের স্বপ্ন। মেডিকেল কলেজের সীমানায় পৌঁছেও তাকে অসীমের পথে পাড়ি দিতে হলো।  কিন্তু কেন ? এই নিয়ে কালকে বঙ্গভূমি তোলপাড় - টিভি চ্যানেলের খোপে খোপে। কিশোরটি প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে সু-চিকিৎসার দ্বারস্থ হতে চেয়েছিল। এই চাওয়াটা তো আমাদের নাগরিক অধিকার, তাই না ? আমরা বিভিন্ন খাতে খাজনা দিই তো শুধু সভ্যতার তকমায় বাঁচবো বলে, প্রয়োজনে পরিষেবা পাবো বলে, তাই না ? তাহলে এই ছেলেটি কি দোষ করল যে তার প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যে কোন হাসপাতাল, নার্সিংহোম ভর্তি নেবে না ? শ্বাসকষ্ট করোনার অন্যতম উপসর্গ বলেই কি ? এই অবহেলার যন্ত্রণা কেন সহ্য করবে সাধারণ মানুষ, যে মায়ের চোখের সামনে চিকিৎসা না পেয়ে তাঁর সন্তা...

একটু ভেবে দেখুন (পর্ব ৭)-এ টি এম | Ektu Bhebe Dekhun Ep#7

Image
একটু ভেবে দেখুন  পর্ব ৭ আজকের পর্ব - ATM  ATM - all time money বা  any time money. ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর দরকার নেই ।  আপনি-আমি যখন খুশি হাতের কাছে কোন এটিএম কাউন্টারে গিয়ে প্রয়োজন  মত টাকা তুলে আনতে  পারি। এটিএম কাউন্টারে লুকোনো 'ক্যামেরা' থাকে, আমরা নিশ্চিন্ত এই ভেবে  যে 'সে' আছে। কোথায় আছে বা আদৌ আছে কিনা  জানা নেই। কালেভদ্রে যদি  টাকা খোয়া যায়, সিসিটিভি  ফুটেজ পেলে তবেই বোঝা যায় তিনি আছেন। সে ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা - ক্যামেরা যদি পুরোনো হয় তবে সকলকেই ভোটার কার্ডের ছবির মতো মনে হয়। কি ? সত্যিই কিনা বলুন ? একটি ফ্যামিলিতে আমিই দেখেছিলাম, ভদ্রলোকের সাত ছেলে। ভোটার কার্ডে সাত জনকেই একরকম লাগছে, শুধু একজনের দাড়ি ছিল বলে তার ঠোঁটের নিচের অংশ থেকে সবটাই কালো। সুতরাং .........   এই তো জীবন।  বেশ চলছিল, এখন তো আবার অন্য জঞ্ঝাট। সকলের মুখেই মাস্ক। যারা দুস্কর্মের জন্যে এটিএম-এ ঢুকবে, তারা যে করোনা মাস্ক পরবেই সে ব্যাপারে নিঃসন্দেহ। এরাই একমাত্র  ভাইরাসের  উদাহরণ, যে নিজেকে বাঁচাতে মাস্ক পরে। পার...

একটু ভেবে দেখুন (পর্ব ৬)-বাঁধ | Ektu Bhebe Dekhun Ep#6

Image
একটু ভেবে দেখুন  পর্ব ৬ আজকের পর্ব - বাঁধ "ভাঙো, বাঁধ ভেঙে দাও" ......... তাসের দেশের জন্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯৩৯-এ তৈরী বন্যা কবলিত চিন করা একটি গান। গানটির শুধু প্রথম লাইনটি আজ যেন প্রকৃতির নিজের কথা। শুনলাম পৃথিবীর সবথেকে বড় বাঁধ (সেটিও চিনে) আজ ভয়াবহ ভাঙ্গনের মুখে। অবিশ্রাম বর্ষণ আর প্রবল বন্যায় সেটি ভেঙে যাবার উপক্রম এবং সত্যিই যদি সেটা ঘটে তাহলে ৪০ কোটি মানুষ ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এ কি খেলা ! করোনার উৎস হিসেবে যাকে আজ চিহ্নিত করছে সারা বিশ্ব, বর্জন করতে চাইছে তাদের সামগ্রী; সেখানে আজ প্রকৃতির কি নিষ্ঠুর পরিহাস! কেন সেও আজ বাঁধ ভাঙতে আসে? কেনই বা তার এই রোষ? ফ্ল্যাশ ফ্লাড, আমফান, বানভাসি - কোথাও কি প্রকৃতিও রুষ্ট আমাদের ব্যভিচারে ?  কোন ভয় নেই, একাগ্রতাই লক্ষ্যের বিষয় এখন কোন প্রান্তেই কোন ভারসাম্য নেই। আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙেছে, সহ্যের বাঁধ সীমা অতিক্রম করেছে অনেক দিন, শহরতলির ও গ্রামের সমস্ত বাঁধ  ধ্বসে পড়বার অপেক্ষায়। এমন বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কথা তো রবীন্দ্রনাথ বলেন নি ! জীর্ণ পুরানো ভেঙে নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দে...

একটু ভেবে দেখুন (পর্ব ৫)-গরম জল | Ektu Bhebe Dekhun-5

Image
একটু ভেবে দেখুন  পর্ব ৫ আজকের পর্ব - গরম জল   করোনা-ভাই রাস-মেলায় জনবোঝাই জমায়েতে সুড়সুড়ি দিতে নেমেছে - তারও যেমন রাশ টানবার আগ্রহ নেই, সাধারণ মানুষও তথৈবচ। যেন - 'পথে এবার নামো সাথী, পথেই হবে পথ চেনা'। মনে হচ্ছে যে পথে নেমে 'এনাকে' আপন করে নেওয়াই একমাত্র উদ্দেশ্য। Lockdown 'নাম কা ওয়াস্তে'। এর থেকে  Lockdown  অনেক বেশি কার্যকরী দেখেছি যখন mill বন্ধ হয়, Manufacturing unit-এর সদর দরজায় হঠাৎ করে তালা ঝোলে। সুতরাং এই করোনা-কে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। শুনছি, গরম জল নাকি এর শ্রেষ্ঠ দাওয়াই। মুখ ধুয়ে নাও, গার্গল করো, খাও এবং স্নান করো। তাই আমার মনে হল, যেমন পুরী বেড়াতে গিয়ে দেখেছি, প্রত্যেক হোটেল-এ ঢোকবার মুখে এক কোণে জলের কল থাকে, সমুদ্রস্নানের পর বালি ধুয়ে ফেলার জন্যে। আমার একান্ত অনুরোধ - পুরসভার কর্তৃপক্ষ, প্রোমোটার, বিল্ডার বা যারা নতুন বাড়ি বানাচ্ছেন বা সংস্কার করবেন ভাবছেন - তারা যদি বাড়িতে ঢোকার মুখে Automated Geyser লাগানো কল লাগান, এবং এটা যদি বাধ্যতামূলক করেন, তাহলে কেমন হয় ?  একটু ভেবে দেখবেন ! এই ধারাবাহিকের অন্য পর্বের জন...

একটু ভেবে দেখুন (পর্ব ৪)-বিজ্ঞাপন ও অবসাদ | Ektu Bhebe Dekhun-4

Image
একটু ভেবে দেখুন  পর্ব ৪ আজকের পর্ব - বিজ্ঞাপন ও অবসাদ  অবসাদ আজ বাংলার  কথা আর এক বাঙালির কথা। এই পর্বে এই বাঙালিকে আমরা 'স্বপ্নিল' নামে চিনব।  ছেলেবেলা থেকেই বই-পড়ার প্রতি দারুণ আগ্রহ। মুড়ির ঠোঙা থেকে মুদিখানার স্লিপ - তার বই-পড়ার লিস্টিতে কেউ বাদ যায় নি। হঠাৎ কেমন করে যেন রবীন্দ্রনাথের 'জীবনস্মৃতি' হাতে এল। বালককে তো থামানো দায়। ওই বইয়ে যা যা উদাহরণ আছে, তার সব কিছুই এই মুহূর্তে জানা দরকার। তাগিদ তাকে সমগ্র রবীন্দ্রনাথ পড়িয়ে ছাড়ল। এবং সে সংগীতের প্রতি অনুরক্ত হয়ে উঠল - ধীরে ধীরে। শুরু হল গান শেখা, তারপর শাস্ত্রীয় সংগীত, স্বনামধন্য সুরকারের কাছে বাংলা গানের তালিম - এই সমস্ত কিছু নিয়ে সে হয়ে উঠল এক অন্য মানুষ। যে বুঝতে শিখল - আমাদের বাঙালির অহংকার করবার সত্যিই অনেক কিছু আছে, আর তার আসমুদ্র জ্ঞানভাণ্ডারে যদি সঠিকভাবে সঠিক গুরুর তত্ত্বাবধানে গা ভাসানো যায় - তাহলেই প্রকৃত মুক্তিস্নান। আর সে যত শিখতে লাগল, ততই অনুধাবন করতে শুরু করল, এ জ্ঞানসমুদ্র বাস্তবে অসীম - যতই শেখা যাক না কেন, আসলের তুলনায় তা কিছুই নয়।...

একটু ভেবে দেখুন (৩) - দৌড় | Ektu Bhebe Dekhun Ep#3

Image
একটু ভেবে দেখুন - ৩ আজ : দৌড় সেদিন একমনে তাকিয়ে ছিলাম জানলার বাইরে দিয়ে ........ আকাশের দিকে  আকাশ বললে, 'অমন করে কি দেখছ ? আমি বললাম, 'মনে হলো বৃষ্টি আসবে, তাই দেখছিলাম তোমার আঁচলের কোন প্রান্ত থেকে জল  এতো অঝোরে  বৃষ্টি হয়ে নামে ! সে শুধোলে, 'দেখা গেল? আমি মাথা নাড়লাম, 'না'।  কোথা থেকে একরাশ মেঘের পাহাড় ঢেকে দিল আকাশের মুখ  কথা বাকি রয়ে গেল।  বৃষ্টি হল অল্প খানিকক্ষণ।  আমার মন ভিজল, পৃথিবীর শরীর ভিজল না।  চটিটা পায়ে গলিয়ে বের হলাম রাস্তায়।  একটু এগিয়ে রাস্তা দু'ভাগ হয়ে  উল্টোমুখে পথ হারিয়েছে ।  বাঁহাতের রাস্তাটা আমার খুব পছন্দের - কালো পিচের কাঠিন্য পেরিয়ে রাঙামাটির দেশ  আর সেখানে কুড়ি-বাইশ ঘরের ছোট্ট গ্রাম  অনেকটা ফাঁকা জমি দেখে বসে পড়লাম।  ইচ্ছে হল মাটিতে কান পাতি -  'তোমার আপনহৃদয়গহনদ্বারে'। মাটি শুধোলে, 'কি শুনছো ? বললাম, 'শুনছি না, খুঁজছি - তোমার না বলা কথা।  মাটি বললে, 'সে তুমি কোনদিনও পাবে না।  'কেন ? তুমি বললেই তো জানা যায়' ! - আমার অবাক প্র...

একটু ভেবে দেখুন-২ : পাগল | Ektu Bhebe Dekhun Ep#2

Image
একটু ভেবে দেখুন - ২ |  তপন বসুর 'কলমে'  আজ : 'পাগল' আজ রিকশায় বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ একজনের কন্ঠস্বরে চমকে উঠলাম -  'ও ভাই রিকশা,  কিসের এতো নকশা ? পা দুটোই তো আছে বেঁচে - তাও কি আজ দেবে ছেঁচে ?' রিক্সাওয়ালা কি বুঝল কে জানে ! এক লম্ফ দিয়ে রিকশা নিয়ে উল্টোদিক থেকে আসা এক বাইকওয়ালার ঘাড়ে গিয়ে  প্রায়   পড়ে আর কি ?  কবির দিকে তাকিয়ে দেখলাম। বেশ লম্বা, পাতলা চেহারা। করোনা মুখোশে মুখ দেখা গেল না। অবিন্যস্ত চুল। আপন মনে বিড়বিড় করতে করতে চলেছে। তার 'ছড়া'য় যে কি হলো এদিকে, কোন ভ্রূক্ষেপ নেই সেদিকে। পথে-ঘাটে এমন অনেক মহিলা-পুরুষকে দেখা যায়, যারা আপনমনে বকবক করতে করতে রাস্তা দিয়ে চলেছে। কখনও কাউকে হাতের কাছে পেয়ে দু-চারটি আপত্তিকর  মন্তব্যও উপহার দিচ্ছে। আমরা এদের 'পাগল' বলি। পাগলে কিই না বলে ! একটি বহুল প্রচলিত বাংলা গানে 'এক পাগল সাপলুডো খেলেছে বিধাতার সঙ্গে - ফুটপাথের ঠিকানায় বসে'। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এই পাগলেরা হয়ত কোন ভদ্র-বংশের, ভাগ্যের ফেরে নিজের জীবনে বেঁচে থাকার অর্থ জোগাতে পা...

একটু ভেবে দেখুন - ১ - 'মা' [] Ektu Bhebe Dekhun Ep#1

Image
একটু ভেবে দেখুন - ১ |  তপন বসুর 'কলমে'  আজ : 'মা' নিম্ন-মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চ-মধ্যবিত্তের সংসারে মোটামুটি সত্তর পার করা মা'য়েরা কেমন আছেন ? পৃথিবীর সবচেয়ে নিশ্চিন্ত নিরাপদ দু'টি হাত এই শ্রেণীর পরিবারের মা'য়েরা সাধারণতঃ একসঙ্গেই থাকেন। কাদের সঙ্গে? হ্যাঁ, ছেলে-বৌয়ে'র সঙ্গে। মায়ের সঙ্গে বিবাহিত ছেলে-বৌ নয়, ছেলের সংসারে মা। সংসারের চাবি তো হস্তান্তরিত ! অবশ্য যদি না ছেলে-বৌ ইতিমধ্যেই চাকরি-সূত্রে প্রবাসী হয়ে গিয়ে থাকে, তবেই। বাইরের কোন শহরে ঝাঁ-চকচকে এপার্টমেন্টে দুটো তো মাত্র ঘর। সেখানে মা কোথায় আর বাকিরাই বা কোথায়? একজন বয়স্ক মানুষ কেমন করে থাকবেন ? তাঁর তো একটু স্বাচ্ছন্দ্য দরকার ! আসলে ছেলের কাছে মায়ের থেকে বৌকে স্বাচ্ছন্দে রাখাটা বেশি জরুরি।  তাই পুরোনো ভিটে-বাড়িতে মা একা - সহযোগী একজন সারাদিনের কাজের লোক রইল। ভিটেও বেহাত হলো না, আর রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে জগৎজননী তো রইলেনই।  'আচ্ছা মা, তোমার জন্যে তো সারাদিনের কাজের লোক রেখে দিয়েছি ? তোমার যা যা প্রয়োজন তা তো আমাজন কিংবা ফ্লিপকার্টে ৪৮ ঘন্টায় পৌঁছে যাচ...