Posts

Showing posts with the label Tapan Basu

তপনের ডায়েরি ৭ / ৩১ আগস্ট ২০২১

তপনের ডায়েরি ৭ ৩১ অগাস্ট ২০২১ দুপুর ৩টে ........ এই জাস্ট খেয়ে উঠলাম। ডাক্তারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথা হলো দেখলাম বুবলুর সঙ্গে। আমার এই হঠাৎ চিকিৎসা ওকে বেশ বড় করে দিচ্ছে দেখলাম। আমিও খুব উপভোগ করছি ওর এই নিজস্বতাকে।  একটু আগে মা ফোন করল। রুপা এসে নিয়ে যাচ্ছে মা'কে জয়পুর। সুন্দর বুঝিয়েছে মা'কে।  আজ দিনটা সুন্দর ছুটি পেয়েছি। এখন বুবলু অফিস গেছে। স্বপ্না একটু শুতে গেলো, আমি তাই একটু লেখা নিয়ে বসেছি।  আজ সকালের একটা ঘটনার কথা বলে রাখি। হাত ঘড়িটা চেয়ে দেখলাম, রাত ৪টে বাজে। একটু বাথরুম থেকে এসেই খুব ভাবতে ইচ্ছে করলো, কি করি আমার এই এতো গানবাজনার বই-কাগজপএ নিয়ে। একটা দারুন চিন্তা মাথায় এলো। সেও স্বপ্ন নিয়েই চোখে ঘুম এলো আবার। একটু ভালো করে দেখি জানাচ্ছি।

তপনের ডায়েরি ৬ / ৩০ আগস্ট ২০২১

৩০ আগস্ট ২০২১ তপনের ডায়েরি-৬ /  মা'কে নিয়ে চিন্তায় আছি।  আমার হঠাৎ একটু শারীরিক অসুস্থতা মা'র মাথায় সেভাবে চাপানো হয় নি। তবু মা তো ? কিছু বোঝে নিজে থেকে, আর কিছুটা না বুঝিয়েই। সুতরাং দেখলাম, রুপার বাড়ি জয়পুর (সেই রাজস্থান) যেতে খুব একটা না করল না।   

তপনের ডায়েরি ৫ / ৫ আগস্ট ২০২১

তপনের ডায়েরি ৫ / ৫ আগস্ট ২০২১ হ্যাঁ, গতকাল সকালে ডাক্তার নিজেই ফোন করলেন বুবলুকে। বললেন আমার ব্রেন-এ একটা খুব ছোট্ট সাইজের মাংসপিন্ড গজিয়েছে, যেটিকে আমাদের খেয়ে ফেলা উদ্দেশ্য। কিন্তু আমি তো জানি যে আমার মাথা ঠিক কি পরিমাণ ঝামেলা অকারণে অন্যের মাথায় চাপিয়ে দিতে পারে ! তাই প্রসঙ্গত, ওই পিন্ড বা টিউমার এমন একটি স্থানে জায়গা নিয়েছে, তাকে সরিয়ে ফেলা মুশকিল। সুতরাং ঠিক হয়েছে এখন, তাকে দেখতে হবে।  আমি এই ৯ তারিখে ভর্তি হবো হিন্দুজা হাসপাতালে - ডাক্তার মিশ্র মানে ডঃ বসন্ত কুমার মিশ্র - নিজেই অপারেট করবেন। উনি ছাড়া ভারতবর্ষে খুব কম সার্জন রয়েছেন, যিনি নাকি এতো বড় অপারেশন-এ হাত দিতে পারেন।  এই সময়ের মধ্যে আর অন্য বলবার মতো কিছু ঘটে নি। চেনা-জানা সকলেরই ফোন আমাকে ঘিরে। তাদের শুধু বলছি, এমন এক টিউমার আমার মাথায় হয়েছে, সেটির খোঁজ চলছে চরম দ্রুততায় ও বিশেষ দক্ষতায়। পেলে জানানো হবে।  আমার মাকে নিয়ে খুবই চিন্তা। একা হয়ে পড়েছেন বড়। আমাকে হসপিটালে ভর্তি হতে হচ্ছে, এটা মা'য়ের একেবারে ভাবনা-চিন্তার উর্দ্ধে।  চলুক না   .......... 

একটু এগিয়ে (কবিতা) by তপন বসু

Image
একটু এগিয়ে (কবিতা) এই সময়ের বুকে কি একটু আঘাত লেগেছে, অভিমানে ধাক্কা ? নতুন ভাইরাসে নিশ্চিহ্ন বসুন্ধরা, এ খবর এতোটাই পাক্কা  ? যত বলশালী প্রশ্নের বাণ  ততো তৎপর উত্তর - ভয়ের ধ্বজা নিপাত যাক, ভাইরাসকে বলি "ধুৎ তোর !" আমরা দেখেছি নতুন জাপান  বিশ্বযুদ্ধের পরে  আজ, মানব শক্তি বিলীন হবে, একদিনের ওই জ্বরে ? একজন প্রাণী, একটা প্রাণ  শুধু সেটাই তো নয় সত্যের প্রকাশ ! মৃত্যু এক,  শপথ   অনেক - চেতনার শৃঙ্খলে বাড়ে বিশ্বাস।  স্থবির পৃথিবী বাড়িতে বসে  সুযোগ দিয়েছে ভাবার  কি ভাবে লড়বে আগামী জীবন  যদি মহামারী আসে আবার ? এমন যুদ্ধ কল্পনাহীন  নাগরিক অস্ত্র ছাড়াই  অণু-পরমাণু-জীবাণুর সাথে  যমে-মানুষে লড়াই।  কলেরা-হাম-বসন্ত হেরেছে  টিকা আবিষ্কারের শেষে  করোনারও আর দাঁত ফুটবে না  জিতবে না অক্লেশে।  ঘড়ি যদিও বা থমকে দাঁড়ায় সময় থামে না - প্রতি আবিষ্কারের পূর্বরাগে, নিশ্চিত প্রসব-যন্ত্রণা।  যন্ত্রণা দিয়ে একটা বছরে   শিকলে বেঁধেছ ত্রাস - আর ক'টা দিন সবুর করো  আসছে.....

শানওয়ালা (কবিতা) by তপন বসু

Image
শানওয়ালা (কবিতা) 'শান দেবেন নাকি ? ছুরি, কাঁচি, বঁটিতে শান ? দেবেন নাকি' ? ......... শহরের মূল রাস্তা থেকে আমাদের পাড়ার মোড়ে হাঁক দিয়ে যাচ্ছে শানওয়ালা।  আমি তাকে ডাকলাম ......... ও শানওয়ালা ! আমার বাড়ির যন্ত্রে আরেকটু শান চাই - আলু, পটল, পাকা এঁচোড় - যারা আমার থেকে দুর্বল ও শীর্ণ  ধারালো ছুরির ভয় দেখিয়ে এসো, ওদের বশ্যতা মানাই।  বয়স যে আমার শক্তি কমিয়েছে - ও শানওয়ালা ! আমার অস্ত্র ধারালো রেখো  - চেতনাহীন সব্জিমণ্ডলীর খাদক হয়েই পুষ্ট থাকি - নইলে আমার যে কিছুই করার নেই, তুমি কি আমাকে তেমনই নিস্পৃহ দেখো ?  শানওয়ালা, তোমার চাকায় শক্তি আছে তুমি বিক্রি করো ভয়  - আস্ফালনকে স্ফীত করে  দেখাও মধ্যবিত্তের জয়।  তোমার কাছে আমিও কিনছি ভয় অন্যকে দেখাব বলে, এও জানি আমি ক্রমশঃ ফুরোচ্ছি  অনেক না ভাল লাগা নিয়ে, তলে তলে।  ও শানওয়ালা ! তোমার কোন বন্ধু আছে ? যে দিতে পারে আমার ইচ্ছে-মগজে শান ? আমি যে শুনছি আগামীর ডাক - বুদ্ধিজীবী মানুষের আহ্বান।  ধারালো অস্ত্র বেজায় ছ...

শুভ-পরিণয় (কবিতা) by তপন বসু

Image
শুভ-পরিণয় (কবিতা) কথা ছিল না, গান ছিল  সুর ছিল বড়ো একা - ভোরের বেলা জানলা খুলতেই  সেদিন, বাণীর সঙ্গে দেখা।  প্রবাহ বড়ই খামখেয়ালি  লীলা বোঝা বেশ দায়  কাল তোমার ওই বন্ধু সুজন  আজ, আমার আঙিনায়।  বিভাজনগুলো অস্পষ্ট  তবু, ধরা দেয় অনুভবে - ভাবি, প্রাণের পরশে পরশপাথর  গান শোনাবে কবে ? ভাবনা-ভারেই হঠাৎ দেখা  অদেখার প্রহর শেষে - দেখি, গানের খেয়া পাড়ি দিয়েছে সব পেয়েছির দেশে।  খোলা আকাশেই গানের বোধি  কোমল-কড়ির দৃষ্টি - বাঁধন ছিঁড়েই বাঁধা যদি পড়ে  আসন্ন ......  নতুন গানের সৃষ্টি ।। তপন বসু / ২রা মে ২০২১

ঘড়ি (কবিতা) by তপন বসু

Image
ঘড়ি (কবিতা) ঘড়িটা হঠাৎ দেখলাম থেমে গেছে - আজ সকালে ঘুম ভেঙেছে বেলায়, ছুটির দিনের আলস্যি নিয়ে - দেখলাম - ঘড়িটা থেমে রয়েছে।  থেমে গেছে কাল রাতে ; এখনও আমার ঘুম লেগে আছে চোখে - কাল রাতে বিনিদ্র ছিলাম  একটা ফোনের প্রতীক্ষায় - যাকে অভ্যন্তরে বেঁধে রাখি ভালোবাসার শিকলে  তার ফোন - সে আমার বন্ধু না প্রেয়সী জানি না ; শুধু জানি আমার সংগীত ও সাহিত্য পিপাসু মনের  সে দোসর - যেখানে আমার লেখনী, সুরের চরাচর,  মানসিক অভিব্যক্তির অনাবিল উদ্ভাস।  তার চোখের তারার রং পরিবর্তন - আত্মতৃপ্তির গরিমা অনুভব করি,  ফোনের এপ্রান্তে - ............কিন্তু ফোনটা আসেনি।  যতক্ষণ ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম - মগজের উচ্চসূত্র  নির্গত করেছে নতুন কবিতা, নতুন গল্পের আরও নব্যতর প্লট, স্বরবর্ণ-ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণময় ছুটোছুটি  ক্লান্ত করেছে আমার আকাঙ্খাকে -  ঘুমিয়ে পড়েছি কখন - ...........ফোনটা বাজেনি।  আজ, এইমাত্র ............. ব্যাটারী বদলাতে গিয়ে দেখি, ঘড়িটা আবার চলতে শুরু করেছে - ঠিক ততটা পিছিয়ে থেকে, যতটা রাত আমি জেগে ছিলাম।।  তপন বসু / 5.6.2021 Image Couresy > unspla...

উপসংহার (কবিতা) by তপন বসু

Image
উপসংহার (কবিতা) রেললাইনে মাথা রাখা যায় নিশ্চিন্তে - মাথা কাটা যাবার ভয় নেই লজ্জায়-বেদনায়                                     রেললাইন আজ মুখ ঢেকেছে ঘাসে।  ভ্রমণ নেই দর্শন নেই - গতিতে খুশির বর্ষণ নেই                                     জীবন স্থবির অতি মহামারীর ত্রাসে।। কারও পরিবারে মৃত্যু-শূন্যতা                                          কোন দম্পতির শিয়রে নতুন প্রাণ - কোন হাসপাতালে অবহেলায় শায়িত রুগী                                          ভাষাহীন চোখে অপেক্ষার বলিদান।। চাকরির চিঠি হাতে পেয়েছিল অর্জুন ;                         ...

ভুল । কবিতা by তপন বসু

Image
  ভুল । কবিতা  স্মৃতির পথে বাউল সাজবার জানি না কি প্রয়োজন ? তবু, স্মৃতিকে ঘিরেই কতো রোমাঞ্চ, কতো না শিহরণ।     এই তো সেদিনের কথা - বাবার মুখে নেবুলাইজারের নল, বুকে নকল হৃদযন্ত্র  মৃত্যুশয্যায় ইঙ্গিতে বোঝালেন, 'শান্তি যদি পেতে চাস, কইবি কম শুনবি বেশি  দেখবি, সেটাই সুখে বাঁচার আসল মন্ত্র'।  কথাগুলোর অনুরণন ছায়া হয়ে আনাচে কানাচে, মৃত্যুর পদধ্বনি স্পষ্ট হলো, চলে গেলেন তিনি মেয়াদশেষে - আমি আজও আছি, বেঁচে ........ সভ্যের হাতে অসভ্যতার কালো দেশে।  আমার আগামী পৃথিবী স্বচ্ছ, হলেও বা ভারি সুন্দর পুরোনো আনন্দে, নতুন অভিমানে আজও বুকে জমে কান্না  অমৃতের পেয়ালায় বিষের চুমুক - এই অভ্যেসে, মন যে আর এগোতে চায় না।। তপন বসু / ১লা বৈশাখ ১৯২৮ (15th April 2021) / কলকাতা  পাদটীকা :- নির্বাচনের বাজারে স্বার্থলোভীর প্রচারে স্বার্থত্যাগীরা নিষ্পেষিত। সমাজব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রাজদণ্ডের হাতে। তবুও আমার স্থির বিশ্বাস, একদিন সত্যের জয় হবে। মানুষের মনের রঙ আর পৃথিবীর রঙ ...

কাব্যগীতি | এসো একসাথে পথ হাঁটি

Image
  -: কাব্যগীতি :- রচনা : তপন বসু এসো একসাথে পথ হাঁটি  চলো ছুঁই পৃথিবীর মাটি মুখোমুখি বসে আমরা দু'জন  জীবনের ছবি আঁকি ।। দেখো আকাশ রঙে নীল ঢেলেছে, তারাদের চোখে আলো - মনটা যদি সবুজ থাকে  সবই লাগে ভালো           অচেনা প্রেমে জীবন বাঁধি            অদেখাকে খুঁজে দেখি - চেনা চেনা স্রোতে পা না বাড়িয়ে  অন্য স্বপ্ন আঁকি ।। তুমি যদি শেষের কবি আমার কিসে ভয়  আমার লেখনী তোমার হাতে হোক না কাব্যময় । তোমার অপরূপ এই রাজসমারহে  আমিও অংশীদার বেহিসেবী মন বড় প্রয়োজন  সময় পথে নামার পথভোলাকে পথেই রেখো,  যেটুকু জীবন বাকি চেনা প্রগতির ছন্দ পেরিয়ে নতুন স্বপ্ন আঁকি ।। বাংলা ভাষা দিবস উপলক্ষে নতুন রচনা  © tapanbasu  kolkata, the 21st February 2021 image courtesy : fulbright

সবুজদ্বীপের ডায়েরি । আন্দামান পর্ব-১৫ । শেষ পর্ব

Image
  সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-১৫। শেষ পর্ব 

সবুজদ্বীপের ডায়েরি (আন্দামান পর্ব-১৪) | Sobujdweeper Diary Ep#14

Image
সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-১৪ সবুজদ্বীপের ডায়েরি । 29th February 2020  । ভোর সাড়ে পাঁচ টা ......... সমুদ্রিকা মেরিন ওয়ার্ল্ড অফ আন্দামান বা SMWA - এক ছাদের তলায় আন্দামানের পটভূমির ইতিবৃত্ত। এই যে জারোয়া নিয়ে এতো গল্প, আমাদের মনে জমা হওয়া অনেক প্রশ্ন; আবার উল্টোদিকে ওই আধুনিক সভ্যতার আলো না দেখা প্রাচীন উপজাতিরা, যারা হয়তো বর্তমান পৃথিবীকে ভয় পায় - এই জট পাকানো ভাবনা-চিন্তার জাল ছিঁড়ে বেরনো প্রয়োজন। সৌভাগ্যবশতঃ SMWA-র ডিরেক্টরকে আমি প্রশ্নগুলো করতে সুযোগ পেলাম। উনি বললেন - 'আসলে কি জানেন মিঃ বোস ? আমরা আমাদের সভ্য জাতি বলে বড়াই করি ঠিকই, কিন্তু আমাদের আদিম প্রবৃত্তিগুলো আজও রক্তে রয়ে গেছে। আপনি বিশ্বাস করতে পারেন, শত প্রচেষ্টাতেও বিদেশী চোরা-শিকারীদের অনুপ্রবেশ আমরা রুখতে পারিনি। এরা আসে মূলতঃ কিছু বিশেষ শ্রেণীর কচ্ছপ সংগ্রহ করতে, তাছাড়া অন্যান্য প্রাণী-শিকার তো রয়েছেই। সবচাইতে অপরাধমূলক যে কাজটা করে সেটা হলো, জারোয়াদের হাটে গিয়ে জোর করে মদ ও মারিজুয়ানা খাইয়ে মহিলাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করা, সম্ভোগের লালসায়।  এই জারোয়ারা মূলতঃ বেঁচে থাক...

কবিতা । রোজের সকাল । তপন বসু

Image
কবিতা । রোজের সকাল । তপন বসু সকালকে মনে রেখে রাত যে ফুরোয় - সকালকে ভালবেসে সূর্য-উদয় ; সকালের আহ্বানে দিনে পথ চলা - কাঁপা-হাতে চায়ের কাপে                        সাবধানী ঠোঁট ফেলা।। সকালগুলো যে রোজ সকালেই আসে তবুও সে দিনেরাতে অশরীরে ভাসে ; সারাদিনে সাজে-কাজে ক্লান্তি ঘুমঘোর - 'মন' খোঁজে আশ্রয়,                     'জীবন', কালকের ভোর।। মাটিতে প্রথম স্নান, সুরের প্রভাব  পথ-চলা সুরেলা, গানের স্বভাব ; ক'দিনের এই পথিক-ভ্রমণ                        গানের কাছে আসা - 'জীবন' তুমি থাকো, না থাকো - তোমায় ছুঁয়ে থাকবে  আমার গান আর সুরেলা ভালবাসা।। - তপন বসু | 5/7/2019 ©tapanbasu. all rights reserved. photo courtesy : thelouisaugustjonasfoundation / cgtn

কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ৫ (১০ই জানুয়ারী ২০২১) | Kanchanjanghar Diary Ep#5

Image
কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি-পর্ব ৫ (১০ই জানুয়ারী ২০২১ - রাত ১০টা) 'এবার আমার ঘরে ফেরার গান পর্যটনের সুখের ছবি - রেখায় আঁকুক বাউল কবি -  বেড়ানোর সুখ সাঙ্গ করে,  স্মৃতির পাতা বন্ধ করে ; নিজের বাসায়  ভালোবাসায়,  আপন আনন্দ-স্নান'। এবারে আর ফ্লাইট লেট্ করে নি।  তল্পিতল্পা নিয়ে  বাড়ি ঢুকলাম রাত ৮টা নাগাদ। বেড়ানোর আনন্দ আর ঘরে ফেরার আনন্দে একাকার হয়ে বেড়ানোর গল্প শুনতে অতি আগ্রহী মা'য়ের সঙ্গে বাহির-মহলের  গল্পে মশগুল হলাম। সেই গল্প করতে করতেই লিখতে বসলাম আজকের ডায়েরি - আমাদের 'কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি'র ৫ম ও অন্তিম পর্ব। জানুয়ারীর ৫-এ আমরা পৌঁছেছিলাম দার্জিলিং। সেখানে ঠিকই ছিল যদি weather ঠিক থাকে, তাহলে সকালের ব্রেকফাস্ট সেরেই ম্যালের উদ্দেশে রওনা দেব। কপাল এতো ভাল, যে তিনদিন দার্জিলিং-এ ছিলাম, বেশির ভাগ সময়টাই আকাশ ছিল পরিষ্কার। কাঞ্চনজঙ্ঘার গল্প ও ছবি তো আগেই শেয়ার করেছি। তাই আমরা পায়ে হেঁটে (যদিও ম্যাল-এ হন্টন ছাড়া গতি নেই) হোটেল থেকে ম্যালের পথ পাড়ি দিয়েছি দুটো দিনই। হাঁটাপথের বাঁহাতে ধাপে ধাপে রাস্তা নেমে তৈরী ক...

কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ৩ (৪ঠা জানুয়ারী ২০২১

Image
কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ৩ (৪ঠা জানুয়ারী ২০২১ - সন্ধে ৬টা) আজ সারাটা দিন দুরন্ত কাটল। ঘুম থেকে উঠেই তো চোখ গেল পাহাড়ের দিকে, সেখানে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান নয়। স্বপ্না একটু বিমর্ষ হয়ে মন্তব্য করল, 'ঐটুকু সাদা মেঘের কি ক্ষমতা ! এতো বড়ো  কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঢেকে দিল'। এও এক অপূর্ব খেলা প্রকৃতির - যদি না জানা থাকত যে,  কাঞ্চনজঙ্ঘা ওখানে দেখা যায়, তাহলে ওই নীল গালিচায় সাদা মেঘটাকেই অপরূপ মনে হতো। যত রাগ গিয়ে পড়লো ওই মেঘের উপর। যতটা না আমার জন্যে, তার চেয়ে অনেক  বেশি স্বপ্নার  ম্লান  মুখটা  দেখে।  আমাকে যখন কেউ জিজ্ঞেস করে, পাহাড় না সমুদ্র - কোনটা ভাল লাগে ? মনে যা আসে তাই উত্তর দিয়ে দিই। আসলে কোন সময় যে কাকে ভালো লাগবে, তা আমার তো জানা নেই।  এবারে যেমন প্রতিটি মুভমেন্টই ভাল লাগছে। তা যে অনেকটা কোবিদের বিষদৃষ্টিতে বন্দিদশার কারণে তা বুঝলেও, এই শীতের পাহাড়কে বড়ো আপনজন মনে হচ্ছে। চায়ের টেবিলে ঠিক হলো আমরা আজ একটা গাড়ি নিয়ে সাইট-সিইং-এ বেরুবো। কাল যা অভিজ্ঞতা, তাতে পদব্রজে বেশিদূর যাবার মোহ আর আমাদের কারোর মধ্যেই নেই। শুধুমাত্র কুটু...

কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ২ (৩রা জানুয়ারী ২০২১ - রাত ৯টা)

Image
  কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ২ (৩রা জানুয়ারী ২০২১ - রাত ৯টা) আজ সকালে ঘুমটা আচমকা ভাঙলো মৃদু কোলাহলের শব্দে। স্বপ্না মুখরিত হোটেল-ঘরের জানলা দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখতে পেয়ে। ডুপ্লে টাইপের সুইটে ওপরের ঘরে  শুয়েছিলাম  আমি আর প্রণবদা । প্রণবদা দেখি জানলার পর্দা সরিয়ে বাইরের আকাশে ভাবুক চিবুকে স্থির রয়েছে। আমিও সেই দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখি ঝলমল করছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। হোটেলের এই ঘরের বারান্দার সামনে দিয়ে চোখের দৃষ্টি  সবুজ এক ভ্যালি  পার করে নিয়ে যেতে হবে সামনের পাহাড়ে। ঠিক যার মাথার ওপর দিয়ে আরো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে  কাঞ্চনজঙ্ঘা - বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। আকাশ পরিষ্কার নীল, বনরাজি সবুজে সবুজ।  ঘড়িতে দেখলাম সাড়ে সাতটা বাজে। চায়ের কাপ নিয়ে ঘরের সোফা আর বিছানায় আমরা সবাই লেপের মধ্যে পা ডুবিয়ে আয়েস করে বসলাম - কাঁচের জানলা দিয়ে চোখ খোলা আকাশপথে, যেখানে প্রায় একশো আশি ডিগ্রি জুড়ে সবুজ উপত্যকা, ব্যাকড্রপে হিমালয়ের ভুবন-ভোলানো ল্যান্ডস্কেপ।  আমাদের এই হোটেলটা ইন্টারনেট দেখে দেখে কুটু আর বুবলু  পরামর্শ করে বুক করেছে। ব্রিটিশ ভদ্রলোক...