Posts

Showing posts with the label tapan's blog

তপনের ডায়েরি ৫ / ৫ আগস্ট ২০২১

তপনের ডায়েরি ৫ / ৫ আগস্ট ২০২১ হ্যাঁ, গতকাল সকালে ডাক্তার নিজেই ফোন করলেন বুবলুকে। বললেন আমার ব্রেন-এ একটা খুব ছোট্ট সাইজের মাংসপিন্ড গজিয়েছে, যেটিকে আমাদের খেয়ে ফেলা উদ্দেশ্য। কিন্তু আমি তো জানি যে আমার মাথা ঠিক কি পরিমাণ ঝামেলা অকারণে অন্যের মাথায় চাপিয়ে দিতে পারে ! তাই প্রসঙ্গত, ওই পিন্ড বা টিউমার এমন একটি স্থানে জায়গা নিয়েছে, তাকে সরিয়ে ফেলা মুশকিল। সুতরাং ঠিক হয়েছে এখন, তাকে দেখতে হবে।  আমি এই ৯ তারিখে ভর্তি হবো হিন্দুজা হাসপাতালে - ডাক্তার মিশ্র মানে ডঃ বসন্ত কুমার মিশ্র - নিজেই অপারেট করবেন। উনি ছাড়া ভারতবর্ষে খুব কম সার্জন রয়েছেন, যিনি নাকি এতো বড় অপারেশন-এ হাত দিতে পারেন।  এই সময়ের মধ্যে আর অন্য বলবার মতো কিছু ঘটে নি। চেনা-জানা সকলেরই ফোন আমাকে ঘিরে। তাদের শুধু বলছি, এমন এক টিউমার আমার মাথায় হয়েছে, সেটির খোঁজ চলছে চরম দ্রুততায় ও বিশেষ দক্ষতায়। পেলে জানানো হবে।  আমার মাকে নিয়ে খুবই চিন্তা। একা হয়ে পড়েছেন বড়। আমাকে হসপিটালে ভর্তি হতে হচ্ছে, এটা মা'য়ের একেবারে ভাবনা-চিন্তার উর্দ্ধে।  চলুক না   .......... 

একটু এগিয়ে (কবিতা) by তপন বসু

Image
একটু এগিয়ে (কবিতা) এই সময়ের বুকে কি একটু আঘাত লেগেছে, অভিমানে ধাক্কা ? নতুন ভাইরাসে নিশ্চিহ্ন বসুন্ধরা, এ খবর এতোটাই পাক্কা  ? যত বলশালী প্রশ্নের বাণ  ততো তৎপর উত্তর - ভয়ের ধ্বজা নিপাত যাক, ভাইরাসকে বলি "ধুৎ তোর !" আমরা দেখেছি নতুন জাপান  বিশ্বযুদ্ধের পরে  আজ, মানব শক্তি বিলীন হবে, একদিনের ওই জ্বরে ? একজন প্রাণী, একটা প্রাণ  শুধু সেটাই তো নয় সত্যের প্রকাশ ! মৃত্যু এক,  শপথ   অনেক - চেতনার শৃঙ্খলে বাড়ে বিশ্বাস।  স্থবির পৃথিবী বাড়িতে বসে  সুযোগ দিয়েছে ভাবার  কি ভাবে লড়বে আগামী জীবন  যদি মহামারী আসে আবার ? এমন যুদ্ধ কল্পনাহীন  নাগরিক অস্ত্র ছাড়াই  অণু-পরমাণু-জীবাণুর সাথে  যমে-মানুষে লড়াই।  কলেরা-হাম-বসন্ত হেরেছে  টিকা আবিষ্কারের শেষে  করোনারও আর দাঁত ফুটবে না  জিতবে না অক্লেশে।  ঘড়ি যদিও বা থমকে দাঁড়ায় সময় থামে না - প্রতি আবিষ্কারের পূর্বরাগে, নিশ্চিত প্রসব-যন্ত্রণা।  যন্ত্রণা দিয়ে একটা বছরে   শিকলে বেঁধেছ ত্রাস - আর ক'টা দিন সবুর করো  আসছে.....

শানওয়ালা (কবিতা) by তপন বসু

Image
শানওয়ালা (কবিতা) 'শান দেবেন নাকি ? ছুরি, কাঁচি, বঁটিতে শান ? দেবেন নাকি' ? ......... শহরের মূল রাস্তা থেকে আমাদের পাড়ার মোড়ে হাঁক দিয়ে যাচ্ছে শানওয়ালা।  আমি তাকে ডাকলাম ......... ও শানওয়ালা ! আমার বাড়ির যন্ত্রে আরেকটু শান চাই - আলু, পটল, পাকা এঁচোড় - যারা আমার থেকে দুর্বল ও শীর্ণ  ধারালো ছুরির ভয় দেখিয়ে এসো, ওদের বশ্যতা মানাই।  বয়স যে আমার শক্তি কমিয়েছে - ও শানওয়ালা ! আমার অস্ত্র ধারালো রেখো  - চেতনাহীন সব্জিমণ্ডলীর খাদক হয়েই পুষ্ট থাকি - নইলে আমার যে কিছুই করার নেই, তুমি কি আমাকে তেমনই নিস্পৃহ দেখো ?  শানওয়ালা, তোমার চাকায় শক্তি আছে তুমি বিক্রি করো ভয়  - আস্ফালনকে স্ফীত করে  দেখাও মধ্যবিত্তের জয়।  তোমার কাছে আমিও কিনছি ভয় অন্যকে দেখাব বলে, এও জানি আমি ক্রমশঃ ফুরোচ্ছি  অনেক না ভাল লাগা নিয়ে, তলে তলে।  ও শানওয়ালা ! তোমার কোন বন্ধু আছে ? যে দিতে পারে আমার ইচ্ছে-মগজে শান ? আমি যে শুনছি আগামীর ডাক - বুদ্ধিজীবী মানুষের আহ্বান।  ধারালো অস্ত্র বেজায় ছ...

শুভ-পরিণয় (কবিতা) by তপন বসু

Image
শুভ-পরিণয় (কবিতা) কথা ছিল না, গান ছিল  সুর ছিল বড়ো একা - ভোরের বেলা জানলা খুলতেই  সেদিন, বাণীর সঙ্গে দেখা।  প্রবাহ বড়ই খামখেয়ালি  লীলা বোঝা বেশ দায়  কাল তোমার ওই বন্ধু সুজন  আজ, আমার আঙিনায়।  বিভাজনগুলো অস্পষ্ট  তবু, ধরা দেয় অনুভবে - ভাবি, প্রাণের পরশে পরশপাথর  গান শোনাবে কবে ? ভাবনা-ভারেই হঠাৎ দেখা  অদেখার প্রহর শেষে - দেখি, গানের খেয়া পাড়ি দিয়েছে সব পেয়েছির দেশে।  খোলা আকাশেই গানের বোধি  কোমল-কড়ির দৃষ্টি - বাঁধন ছিঁড়েই বাঁধা যদি পড়ে  আসন্ন ......  নতুন গানের সৃষ্টি ।। তপন বসু / ২রা মে ২০২১

উপসংহার (কবিতা) by তপন বসু

Image
উপসংহার (কবিতা) রেললাইনে মাথা রাখা যায় নিশ্চিন্তে - মাথা কাটা যাবার ভয় নেই লজ্জায়-বেদনায়                                     রেললাইন আজ মুখ ঢেকেছে ঘাসে।  ভ্রমণ নেই দর্শন নেই - গতিতে খুশির বর্ষণ নেই                                     জীবন স্থবির অতি মহামারীর ত্রাসে।। কারও পরিবারে মৃত্যু-শূন্যতা                                          কোন দম্পতির শিয়রে নতুন প্রাণ - কোন হাসপাতালে অবহেলায় শায়িত রুগী                                          ভাষাহীন চোখে অপেক্ষার বলিদান।। চাকরির চিঠি হাতে পেয়েছিল অর্জুন ;                         ...

কবিতা । রোজের সকাল । তপন বসু

Image
কবিতা । রোজের সকাল । তপন বসু সকালকে মনে রেখে রাত যে ফুরোয় - সকালকে ভালবেসে সূর্য-উদয় ; সকালের আহ্বানে দিনে পথ চলা - কাঁপা-হাতে চায়ের কাপে                        সাবধানী ঠোঁট ফেলা।। সকালগুলো যে রোজ সকালেই আসে তবুও সে দিনেরাতে অশরীরে ভাসে ; সারাদিনে সাজে-কাজে ক্লান্তি ঘুমঘোর - 'মন' খোঁজে আশ্রয়,                     'জীবন', কালকের ভোর।। মাটিতে প্রথম স্নান, সুরের প্রভাব  পথ-চলা সুরেলা, গানের স্বভাব ; ক'দিনের এই পথিক-ভ্রমণ                        গানের কাছে আসা - 'জীবন' তুমি থাকো, না থাকো - তোমায় ছুঁয়ে থাকবে  আমার গান আর সুরেলা ভালবাসা।। - তপন বসু | 5/7/2019 ©tapanbasu. all rights reserved. photo courtesy : thelouisaugustjonasfoundation / cgtn

মনে পড়ে-৭ | সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় | Mone Pore Ep#7

Image
  মনে পড়ে -৭ কিংবদন্তী অভিনেতা-নাট্যপরিচালক-কবি ও আবৃত্তিকার শ্রী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ।। ইহজগতে কিছু মানুষ যে সরণশীল ও মরণশীল - এ সত্য বিশ্বাস করতে ইচ্ছে জাগে না। এঁরা অনেকটা নদীর জলের মতো - বাসি টাটকা বলে কিছু নেই, গড়িয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত - সুজলা বাষ্পে সুফলা ধরণীকে এগোবার মন্ত্র শুনিয়ে। আমাদের যেমন মা ও বাবা - এনারা কোন এক সময়ে  যে  আমাদের জীবনের গন্ডি থেকে সরে যেতে পারেন বা  স্মরণপথের পথিক হতে পারেন, তা কি আমরা মানতে পারি ? তবু, জাগতিক নিয়মে আমাদের পথ দেখানো এই ইহ- জীবনেরা এ কূল ছেড়ে অন্য কূলে পাড়ি জমা ন - আমরা একা  হই।    সৌমিত্রদা আমাদের অভিবাবক-স্বরূপ তেমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি কর্মহীন জীবনে বিশ্বাসী ছিলেন না। কাজই তাঁকে অমর করেছে - আর তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন সংস্কৃতির সকল মঞ্চে সকল কাজের কাজী হিসেবে। আমরা অভ্যস্ত হয়েছি এই শক্ত স্তম্ভটিকে ধরে পথ চলতে। তাই, অনেকের মতো আমিও কখনও ভাবিনি যে এই স্তম্ভটিও ক্ষয়িষ্ণু - তারও বয়স বাড়ছে। ভাবিনি, তিনি কখনো বলতে পারেন ' আমার যাবার সময় হলো, দাও বিদায় '। রবীন্দ্রভাবনায় অনুপ্রাণিত "উত...

মনে পড়ে-৬ | সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় | Mone Pore Ep#6

Image
মনে পড়ে -৬ কিংবদন্তী অভিনেতা-নাট্যপরিচালক-কবি ও আবৃত্তিকার শ্রী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ।। বাংলার অগ্রণী এক টেলিভিশন চ্যানেলে তখন শিশুশিল্পীদের নিয়ে 'তারানা' শীর্ষক এক রিয়ালিটি শো হচ্ছে নিয়ম করে। টানা কয়েক বছর ধরে চলা সেই শো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে শ্রোতাদের কাছে। সেই টিভি অনুষ্ঠান থেকে এক অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিসম্পন্না শিশুশিল্পীকে পেলাম আমি, যার নাম অন্বেষা - প্রথম শোনা গানেই অন্বেষা সম্পর্কে আমার দৃঢ় বিশ্বাস তৈরী হয়েছিল যে, এই সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবে সংগীতের হাত ধরে। পরবর্তীকালে এই অন্বেষা দেশের প্রথম সারির এক কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে, প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আমার মিউজিক কোম্পানির লেবেল থেকে সেবার অন্বেষার রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম প্রকাশ পাবে। সেটি হবে অন্বেষার নিজের তৃতীয় অডিও অ্যালবাম, Ragranjani Media & Entertainment থেকে প্রকাশিত। রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম "এ পথে অন্বেষা" প্রকাশিত হয়েছিল ২০১০এ - যা' কোন বিষয়ভিত্তিক ছিল না। সুতরাং এবার তো একটু নতুন কিছু ভাবতে হয় !  হঠাৎ মাথায় এলো, রবিঠাকুর তো প্রকৃতির কবি। প্রকৃতিকে তিনি কত রকম ...

মনে পড়ে-৫ | সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় | Mone Pore Ep#5

Image
মনে পড়ে -৫ কিংবদন্তী অভিনেতা-নাট্যপরিচালক-কবি ও আবৃত্তিকার শ্রী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ।। কত কিছু যে মনে পড়ে, আবার অনেক কিছুই মনে পড়ে না। ঘটে যাওয়া ঘটনারা সাদা-কালো পুরোনো ছায়াছবির মতো পর্দায় আসে, দেওয়ালে সেঁটে থাকা ক্যালেন্ডারের পাতা হয়ে পড়ে থাকে স্মৃতির অন্ধকারে, তারিখ সেখানে স্পষ্ট অনুধাবন করা যায় না।  সালটা ১৯৯৫, সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখ। সেদিন কলকাতার কলামন্দির মঞ্চে এক অন্য-ভাবনার গানের অনুষ্ঠান। শ্রী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-জীবনের পঞ্চাশ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে, তাঁর দীর্ঘদিনের ছাত্র হিসেবে আমার একান্ত অবরুদ্ধ  এক  ইচ্ছেকে বাস্তবায়িত করতে উদ্যোগ নিয়েছিলাম একটি অভিনব সঙ্গীতানুষ্ঠানের, যেখানে দ্বিজেনদাকে কেন্দ্র করে মুম্বাই, শান্তিনিকেতন ও কলকাতার বিশিষ্ট শিল্পী ও গুনীজনেরা এক-মঞ্চে একই চালচিত্রে উপস্থিত থাকবেন। দ্বিজেনদা নিজেও অত্যন্ত উৎসাহিত ছিলেন আমার অনুষ্ঠান-পরিকল্পনার বিষয়বস্তুতে। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমি নিজেও বেশ টেনশনে - আমার উত্তেজনার পারদ উর্ধমুখী হয়ে খেই হারিয়েছে। এমন অবস্থায় মহা-গোল - স...

মনে পড়ে-৪ | সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় | Mone Pore Ep#4

Image
মনে পড়ে -৪ কিংবদন্তী অভিনেতা-নাট্যপরিচালক-কবি ও আবৃত্তিকার শ্রী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ।। সৌভাগ্যের সেই মুহূর্ত । সৌমিত্রদা'র সঙ্গে কাজের ফাঁকে আলাপচারিতার সোনালি দিন  সেদিন দুপুরে হঠাৎ দাদা'র টেলিফোন। দাদা অর্থে আমার অন্যতম সংগীতগুরু শ্রী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়। সেটা ল্যান্ডলাইন টেলিফোনের যুগ। বললেন, 'কাল বিকেলে তৈরি থেকো, আমি তোমাকে বাড়ি থেকে বিকেল ৫টা নাগাদ তুলে নেব। গ্রান্ড হোটেলে একটা অনুষ্ঠান আছে'। এমনিতেই এই সুযোগ আমার কাছে আশীর্বাদ-স্বরূপ। আর তাছাড়া দাদার আবদার মানে ওটাই আদেশ এবং কোন মানসিক টালবাহানা ছাড়াই সে আদেশ শিরোধার্য। পরদিন বিকেলে চাপা আনন্দ-উত্তেজনার মিশেলে তৈরী হলাম, দাদার সাথে পৌঁছলাম গ্রান্ড হোটেলে। হোটেলের Banquet-এ অনুষ্ঠান, হৃদয়ের ডাক্তারদের আয়োজনে সে এক এলাহী ব্যবস্থা। পৌঁছে দেখি, সেখানে উপস্থিত রয়েছেন সৌমিত্রদা, সে সময়েই তারা হয়ে ওঠা সেই কিংবদন্তি অভিনেতা শ্রী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এই কিশোর তাঁর মুখোমুখি হবার প্রথম দিন, যে দিনটি থেকেই ওই এক-কুড়ি বয়সের কিশোরের তাঁকে নিয়ে মোহ ও সম্মোহনের শুরু। লাল রঙের হাতা-গোটানো ফ...