Posts

Showing posts with the label tapan's diary

তপনের ডায়েরি ৬ / ৩০ আগস্ট ২০২১

৩০ আগস্ট ২০২১ তপনের ডায়েরি-৬ /  মা'কে নিয়ে চিন্তায় আছি।  আমার হঠাৎ একটু শারীরিক অসুস্থতা মা'র মাথায় সেভাবে চাপানো হয় নি। তবু মা তো ? কিছু বোঝে নিজে থেকে, আর কিছুটা না বুঝিয়েই। সুতরাং দেখলাম, রুপার বাড়ি জয়পুর (সেই রাজস্থান) যেতে খুব একটা না করল না।   

তপনের ডায়েরি ৫ / ৫ আগস্ট ২০২১

তপনের ডায়েরি ৫ / ৫ আগস্ট ২০২১ হ্যাঁ, গতকাল সকালে ডাক্তার নিজেই ফোন করলেন বুবলুকে। বললেন আমার ব্রেন-এ একটা খুব ছোট্ট সাইজের মাংসপিন্ড গজিয়েছে, যেটিকে আমাদের খেয়ে ফেলা উদ্দেশ্য। কিন্তু আমি তো জানি যে আমার মাথা ঠিক কি পরিমাণ ঝামেলা অকারণে অন্যের মাথায় চাপিয়ে দিতে পারে ! তাই প্রসঙ্গত, ওই পিন্ড বা টিউমার এমন একটি স্থানে জায়গা নিয়েছে, তাকে সরিয়ে ফেলা মুশকিল। সুতরাং ঠিক হয়েছে এখন, তাকে দেখতে হবে।  আমি এই ৯ তারিখে ভর্তি হবো হিন্দুজা হাসপাতালে - ডাক্তার মিশ্র মানে ডঃ বসন্ত কুমার মিশ্র - নিজেই অপারেট করবেন। উনি ছাড়া ভারতবর্ষে খুব কম সার্জন রয়েছেন, যিনি নাকি এতো বড় অপারেশন-এ হাত দিতে পারেন।  এই সময়ের মধ্যে আর অন্য বলবার মতো কিছু ঘটে নি। চেনা-জানা সকলেরই ফোন আমাকে ঘিরে। তাদের শুধু বলছি, এমন এক টিউমার আমার মাথায় হয়েছে, সেটির খোঁজ চলছে চরম দ্রুততায় ও বিশেষ দক্ষতায়। পেলে জানানো হবে।  আমার মাকে নিয়ে খুবই চিন্তা। একা হয়ে পড়েছেন বড়। আমাকে হসপিটালে ভর্তি হতে হচ্ছে, এটা মা'য়ের একেবারে ভাবনা-চিন্তার উর্দ্ধে।  চলুক না   .......... 

তপনের ডায়েরি ৪ / 30-July-2021

তপনের ডায়েরি  ৪। ৩০শে জুলাই ২০২১ গতকাল হঠাৎ করে বোম্বে আসতে হলো। কারণটা বলছি - তার আগে বলি, বুবলু বারেবারেই শিরোর কথা বলতো। বলত, "বাবা, তুমি এলে শিরো-কে নিয়েই তোমার সময় কেটে যাবে। এতো মিষ্টি তোমায় কি বলব'। সত্যিই তাই। শিরো এমন একটা পুষ্যি, যে তার অনবদ্য আকার-প্রকারেই আপন করে নেবে আপনাকে।যাই হোক, খুব স্বাভাবিকভাবেই আজ সকাল থেকে ওর জন্যে মনটা কেমন যেন বিহ্বল হয়ে রইল। এর মধ্যে দেখি আমার চোখের একটু সমস্যা। কি রকম ? না, একটু যেন ঝাপসা দেখছি। সবে এসেছি বেঙ্গালুরু। এখনই এই বিষয় নিয়ে বুবলুকে বিব্রত করতে ইচ্ছে করছে না, তবুও বলতেই হলো। কারণ, এর উৎস কি বা কোথায়, তা জানাটা খুব জরুরি। গেলাম NIMHANS-এ - ন্যাশনাল ইন্সটিট্যুটে অফ মেন্টাল হেল্থ & নিউরোসায়েন্স। সেখানে তো এই পান্ডেমিক অবস্থাতেও তিল ধারণের জায়গা নেই।দেবতার মন্দিরে প্রবেশ করবার মতো করে লাইন দিয়ে পৌঁছলাম ডাক্তারের দরবারে। দেখলেন তাঁরা, বেশ মনোযোগ সহকারেই, তবে উত্তর পেতে তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে।  এদিকে, বুবলু একটুও অপেক্ষাতে নারাজ। বাবা দেখতে না পেলে কিছুতেই যে হবে না। আমার দৃষ্টির ওপরে ওর যে ...

তপনের ডায়েরি ৩ | 28 July 2021

তপনের ডায়েরি ৩ | 28 July 2021 ভাবছিলাম, আমার একটা ভুল ধারণার কথা। প্লেনে করে বেঙ্গালুরু আসতে আসতে ভাবছিলাম ওখানে পৌঁছে সময় কাটাবো কি করে ? কিন্তু এ আমার চিরকালের সৌভাগ্য, নিজের জায়গায় পৌঁছোবার পর ওই দুশ্চিতাটা আর মাথায় প্রশ্রয় পায় না। এবারেও কোন অন্যথা হোল না। বুবলুর ফ্ল্যাট HSR-এ, সুন্দর লোক্যালিটি।  ওর ফ্ল্যাটে যখন পৌঁছলাম তখন প্রায় অন্ধকার, তবু যেটুকু দেখলাম, তাতেই মন ভরে গেল। আর বুবলু একা থাকে বলে, ফ্ল্যাটে বাড়তি কিছু নেই যেটা অতিরিক্ত মনে হতে পারে। স্বপ্না  নিয়ে গেল মৈনাকদের বাড়ি ওই রাত্রেই। আলাপ হলো মৈনাকের মা কোয়েলির সঙ্গে; আর নিমেষে একাত্ম হলাম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ওদের পোষ্য 'শিরো'কে কাছে পেয়ে। Shih-tzu প্রজাতির এই পোষ্যটি যতটা সুন্দর, ততটা মিষ্টি। তার চিৎকারও যে এমন মধুর হতে পারে, আমার তেমন কোন ধারণাই ছিল না। অনেকটা রাত হলো বুবলুর ফ্ল্যাটে ফিরতে। অল্প বৃষ্টি হচ্ছে, এখন বর্ষাকাল। শির্শিরিনি হওয়ার মধ্যে বাড়ি এসে শুতে বেশি রাত আর করি নি।