Posts

Showing posts with the label tapan's write up

শানওয়ালা (কবিতা) by তপন বসু

Image
শানওয়ালা (কবিতা) 'শান দেবেন নাকি ? ছুরি, কাঁচি, বঁটিতে শান ? দেবেন নাকি' ? ......... শহরের মূল রাস্তা থেকে আমাদের পাড়ার মোড়ে হাঁক দিয়ে যাচ্ছে শানওয়ালা।  আমি তাকে ডাকলাম ......... ও শানওয়ালা ! আমার বাড়ির যন্ত্রে আরেকটু শান চাই - আলু, পটল, পাকা এঁচোড় - যারা আমার থেকে দুর্বল ও শীর্ণ  ধারালো ছুরির ভয় দেখিয়ে এসো, ওদের বশ্যতা মানাই।  বয়স যে আমার শক্তি কমিয়েছে - ও শানওয়ালা ! আমার অস্ত্র ধারালো রেখো  - চেতনাহীন সব্জিমণ্ডলীর খাদক হয়েই পুষ্ট থাকি - নইলে আমার যে কিছুই করার নেই, তুমি কি আমাকে তেমনই নিস্পৃহ দেখো ?  শানওয়ালা, তোমার চাকায় শক্তি আছে তুমি বিক্রি করো ভয়  - আস্ফালনকে স্ফীত করে  দেখাও মধ্যবিত্তের জয়।  তোমার কাছে আমিও কিনছি ভয় অন্যকে দেখাব বলে, এও জানি আমি ক্রমশঃ ফুরোচ্ছি  অনেক না ভাল লাগা নিয়ে, তলে তলে।  ও শানওয়ালা ! তোমার কোন বন্ধু আছে ? যে দিতে পারে আমার ইচ্ছে-মগজে শান ? আমি যে শুনছি আগামীর ডাক - বুদ্ধিজীবী মানুষের আহ্বান।  ধারালো অস্ত্র বেজায় ছ...

শুভ-পরিণয় (কবিতা) by তপন বসু

Image
শুভ-পরিণয় (কবিতা) কথা ছিল না, গান ছিল  সুর ছিল বড়ো একা - ভোরের বেলা জানলা খুলতেই  সেদিন, বাণীর সঙ্গে দেখা।  প্রবাহ বড়ই খামখেয়ালি  লীলা বোঝা বেশ দায়  কাল তোমার ওই বন্ধু সুজন  আজ, আমার আঙিনায়।  বিভাজনগুলো অস্পষ্ট  তবু, ধরা দেয় অনুভবে - ভাবি, প্রাণের পরশে পরশপাথর  গান শোনাবে কবে ? ভাবনা-ভারেই হঠাৎ দেখা  অদেখার প্রহর শেষে - দেখি, গানের খেয়া পাড়ি দিয়েছে সব পেয়েছির দেশে।  খোলা আকাশেই গানের বোধি  কোমল-কড়ির দৃষ্টি - বাঁধন ছিঁড়েই বাঁধা যদি পড়ে  আসন্ন ......  নতুন গানের সৃষ্টি ।। তপন বসু / ২রা মে ২০২১

উপসংহার (কবিতা) by তপন বসু

Image
উপসংহার (কবিতা) রেললাইনে মাথা রাখা যায় নিশ্চিন্তে - মাথা কাটা যাবার ভয় নেই লজ্জায়-বেদনায়                                     রেললাইন আজ মুখ ঢেকেছে ঘাসে।  ভ্রমণ নেই দর্শন নেই - গতিতে খুশির বর্ষণ নেই                                     জীবন স্থবির অতি মহামারীর ত্রাসে।। কারও পরিবারে মৃত্যু-শূন্যতা                                          কোন দম্পতির শিয়রে নতুন প্রাণ - কোন হাসপাতালে অবহেলায় শায়িত রুগী                                          ভাষাহীন চোখে অপেক্ষার বলিদান।। চাকরির চিঠি হাতে পেয়েছিল অর্জুন ;                         ...

"বৃষ্টি ভিতর ঘরে" | কবিতা by তপন বসু | Bristi Bhitor Ghore (Poem)

Image
কবিতা "বৃষ্টি ভিতর ঘরে" বৃষ্টি পড়ছে মনের ঘরে          ভিজছে ভালবাসা, বাইরে শরীর ক্ষত-বিক্ষত         দোদুল্যমান আশা। অনেক স্বপ্ন শরীরে পুড়েছে          রোদ-আকাশের গায়ে, তবুও শরীর বেঁচে আছে          মনের আঙ্গিনায়। সংসারগামী দ্বিপদ কাঠামো  ঠিক-ভুলের দুই প্রান্তে, অনেক ইচ্ছে না-ফোটা ফুলে    ঝরেছে একলা বসন্তে। মন ও শরীর যখনই পাঠিয়েছে  বার্তা তাদের সংসারে  মধ্যমজান বিধিনিষেধ   তা' উড়িয়ে দিয়েছে নির্বিকারে।  আজ বৃষ্টি অন্যরকম          মন ভেজাতে চায়। শরীর-চাদর সজীব হয়েছে  প্রকৃতির, স্পর্শ উষ্ণতায়।  অঝোর ধারা আবার করে             সবুজ করেছে মন - পিলসুজে তেল কম পড়লেও  দেখি, আলোর আয়োজন।  নতুন সূর্য,ভোরের আলো  আবার করে লাগছে ভালো  বৃষ্টি-স্নানে স্নিগ্ধ সকাল  নিভিয়ে দিয়েছে অপ্রত্যাশিত কালো।...

ভুল । কবিতা by তপন বসু

Image
  ভুল । কবিতা  স্মৃতির পথে বাউল সাজবার জানি না কি প্রয়োজন ? তবু, স্মৃতিকে ঘিরেই কতো রোমাঞ্চ, কতো না শিহরণ।     এই তো সেদিনের কথা - বাবার মুখে নেবুলাইজারের নল, বুকে নকল হৃদযন্ত্র  মৃত্যুশয্যায় ইঙ্গিতে বোঝালেন, 'শান্তি যদি পেতে চাস, কইবি কম শুনবি বেশি  দেখবি, সেটাই সুখে বাঁচার আসল মন্ত্র'।  কথাগুলোর অনুরণন ছায়া হয়ে আনাচে কানাচে, মৃত্যুর পদধ্বনি স্পষ্ট হলো, চলে গেলেন তিনি মেয়াদশেষে - আমি আজও আছি, বেঁচে ........ সভ্যের হাতে অসভ্যতার কালো দেশে।  আমার আগামী পৃথিবী স্বচ্ছ, হলেও বা ভারি সুন্দর পুরোনো আনন্দে, নতুন অভিমানে আজও বুকে জমে কান্না  অমৃতের পেয়ালায় বিষের চুমুক - এই অভ্যেসে, মন যে আর এগোতে চায় না।। তপন বসু / ১লা বৈশাখ ১৯২৮ (15th April 2021) / কলকাতা  পাদটীকা :- নির্বাচনের বাজারে স্বার্থলোভীর প্রচারে স্বার্থত্যাগীরা নিষ্পেষিত। সমাজব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রাজদণ্ডের হাতে। তবুও আমার স্থির বিশ্বাস, একদিন সত্যের জয় হবে। মানুষের মনের রঙ আর পৃথিবীর রঙ ...

সেদিন চৈত্রমাস । কবিতা || Sedin ChoitraMas (Poetry)

Image
সেদিন চৈত্রমাস । কবিতা তখন আমি চব্বিশ কি পঁচিশ - ডাক পড়ল প্রবাসে, সুদূর আমেরিকায়। বাঙালিরা আমার গান শুনতে চায় আমার গান মানে রবিঠাকুর, আর তার পরবর্তী সময়ের গান - সবটাই অন্যের থেকে ধার নেওয়া। তবু, আমার সেই গানেই 'তুমি' মন্ত্রমুগ্ধ ! তুমি থাকতে আমাদের ঠিক পাশের পাড়ায় - আমার বাড়ির সামনে দিয়েই  তোমার স্কুলের রাস্তা। বন্ধু ছিলাম আমরা  মিলেছিলাম আপন হতেই, খেলার ছলে, গানের টানে। প্রতিদিন সকালে স্কুলের পথে  আমাদের দোতলার বারান্দার দিকে - তোমার চোখ পড়ত ; একদিন আমার চোখে পড়ে গেল।  তৈরী হল নতুন অভ্যেস - সকাল ছ'টায় চোখ মেলে জেগে ওঠা, চোখে চোখ রাখব বলে।  তারপর চলতো টানা রেওয়াজ - বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে  খেলার মাঠে ; তুমিও আসতে - তোমার বান্ধবীদের সাথে নিয়ে। দুটি পরিবারই জানত  আমরা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সুখ-দুঃখের সমব্যাথী ; কোন আড়াল ছিল না একে অপরের কাছে - আত্মপ্রকাশে। বুঝতাম, বন্ধুত্বের বাইরেও  আমার গান তোমায় টানে। সেই গান নিয়ে আজ আমি প্রবাসের পথে; আমার এমন সৌভাগ্যে  তোমার আকুলতা - আমায় সারা আ...

কাব্যগীতি | এসো একসাথে পথ হাঁটি

Image
  -: কাব্যগীতি :- রচনা : তপন বসু এসো একসাথে পথ হাঁটি  চলো ছুঁই পৃথিবীর মাটি মুখোমুখি বসে আমরা দু'জন  জীবনের ছবি আঁকি ।। দেখো আকাশ রঙে নীল ঢেলেছে, তারাদের চোখে আলো - মনটা যদি সবুজ থাকে  সবই লাগে ভালো           অচেনা প্রেমে জীবন বাঁধি            অদেখাকে খুঁজে দেখি - চেনা চেনা স্রোতে পা না বাড়িয়ে  অন্য স্বপ্ন আঁকি ।। তুমি যদি শেষের কবি আমার কিসে ভয়  আমার লেখনী তোমার হাতে হোক না কাব্যময় । তোমার অপরূপ এই রাজসমারহে  আমিও অংশীদার বেহিসেবী মন বড় প্রয়োজন  সময় পথে নামার পথভোলাকে পথেই রেখো,  যেটুকু জীবন বাকি চেনা প্রগতির ছন্দ পেরিয়ে নতুন স্বপ্ন আঁকি ।। বাংলা ভাষা দিবস উপলক্ষে নতুন রচনা  © tapanbasu  kolkata, the 21st February 2021 image courtesy : fulbright

সবুজদ্বীপের ডায়েরি । আন্দামান পর্ব-১৫ । শেষ পর্ব

Image
  সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-১৫। শেষ পর্ব 

সবুজদ্বীপের ডায়েরি (আন্দামান পর্ব-১৪) | Sobujdweeper Diary Ep#14

Image
সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-১৪ সবুজদ্বীপের ডায়েরি । 29th February 2020  । ভোর সাড়ে পাঁচ টা ......... সমুদ্রিকা মেরিন ওয়ার্ল্ড অফ আন্দামান বা SMWA - এক ছাদের তলায় আন্দামানের পটভূমির ইতিবৃত্ত। এই যে জারোয়া নিয়ে এতো গল্প, আমাদের মনে জমা হওয়া অনেক প্রশ্ন; আবার উল্টোদিকে ওই আধুনিক সভ্যতার আলো না দেখা প্রাচীন উপজাতিরা, যারা হয়তো বর্তমান পৃথিবীকে ভয় পায় - এই জট পাকানো ভাবনা-চিন্তার জাল ছিঁড়ে বেরনো প্রয়োজন। সৌভাগ্যবশতঃ SMWA-র ডিরেক্টরকে আমি প্রশ্নগুলো করতে সুযোগ পেলাম। উনি বললেন - 'আসলে কি জানেন মিঃ বোস ? আমরা আমাদের সভ্য জাতি বলে বড়াই করি ঠিকই, কিন্তু আমাদের আদিম প্রবৃত্তিগুলো আজও রক্তে রয়ে গেছে। আপনি বিশ্বাস করতে পারেন, শত প্রচেষ্টাতেও বিদেশী চোরা-শিকারীদের অনুপ্রবেশ আমরা রুখতে পারিনি। এরা আসে মূলতঃ কিছু বিশেষ শ্রেণীর কচ্ছপ সংগ্রহ করতে, তাছাড়া অন্যান্য প্রাণী-শিকার তো রয়েছেই। সবচাইতে অপরাধমূলক যে কাজটা করে সেটা হলো, জারোয়াদের হাটে গিয়ে জোর করে মদ ও মারিজুয়ানা খাইয়ে মহিলাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করা, সম্ভোগের লালসায়।  এই জারোয়ারা মূলতঃ বেঁচে থাক...

কবিতা । রোজের সকাল । তপন বসু

Image
কবিতা । রোজের সকাল । তপন বসু সকালকে মনে রেখে রাত যে ফুরোয় - সকালকে ভালবেসে সূর্য-উদয় ; সকালের আহ্বানে দিনে পথ চলা - কাঁপা-হাতে চায়ের কাপে                        সাবধানী ঠোঁট ফেলা।। সকালগুলো যে রোজ সকালেই আসে তবুও সে দিনেরাতে অশরীরে ভাসে ; সারাদিনে সাজে-কাজে ক্লান্তি ঘুমঘোর - 'মন' খোঁজে আশ্রয়,                     'জীবন', কালকের ভোর।। মাটিতে প্রথম স্নান, সুরের প্রভাব  পথ-চলা সুরেলা, গানের স্বভাব ; ক'দিনের এই পথিক-ভ্রমণ                        গানের কাছে আসা - 'জীবন' তুমি থাকো, না থাকো - তোমায় ছুঁয়ে থাকবে  আমার গান আর সুরেলা ভালবাসা।। - তপন বসু | 5/7/2019 ©tapanbasu. all rights reserved. photo courtesy : thelouisaugustjonasfoundation / cgtn

কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি - পর্ব ৫ (১০ই জানুয়ারী ২০২১) | Kanchanjanghar Diary Ep#5

Image
কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি-পর্ব ৫ (১০ই জানুয়ারী ২০২১ - রাত ১০টা) 'এবার আমার ঘরে ফেরার গান পর্যটনের সুখের ছবি - রেখায় আঁকুক বাউল কবি -  বেড়ানোর সুখ সাঙ্গ করে,  স্মৃতির পাতা বন্ধ করে ; নিজের বাসায়  ভালোবাসায়,  আপন আনন্দ-স্নান'। এবারে আর ফ্লাইট লেট্ করে নি।  তল্পিতল্পা নিয়ে  বাড়ি ঢুকলাম রাত ৮টা নাগাদ। বেড়ানোর আনন্দ আর ঘরে ফেরার আনন্দে একাকার হয়ে বেড়ানোর গল্প শুনতে অতি আগ্রহী মা'য়ের সঙ্গে বাহির-মহলের  গল্পে মশগুল হলাম। সেই গল্প করতে করতেই লিখতে বসলাম আজকের ডায়েরি - আমাদের 'কাঞ্চনজঙ্ঘার ডায়েরি'র ৫ম ও অন্তিম পর্ব। জানুয়ারীর ৫-এ আমরা পৌঁছেছিলাম দার্জিলিং। সেখানে ঠিকই ছিল যদি weather ঠিক থাকে, তাহলে সকালের ব্রেকফাস্ট সেরেই ম্যালের উদ্দেশে রওনা দেব। কপাল এতো ভাল, যে তিনদিন দার্জিলিং-এ ছিলাম, বেশির ভাগ সময়টাই আকাশ ছিল পরিষ্কার। কাঞ্চনজঙ্ঘার গল্প ও ছবি তো আগেই শেয়ার করেছি। তাই আমরা পায়ে হেঁটে (যদিও ম্যাল-এ হন্টন ছাড়া গতি নেই) হোটেল থেকে ম্যালের পথ পাড়ি দিয়েছি দুটো দিনই। হাঁটাপথের বাঁহাতে ধাপে ধাপে রাস্তা নেমে তৈরী ক...

সবুজদ্বীপের ডায়েরি (আন্দামান পর্ব-১৩) | Sobujdweeper Diary Ep#13

Image
সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-১৩ সবুজদ্বীপের ডায়েরি । 29th February 2020  । রাত  ১০ টা ......... বাসের সকলেরই ঘুম-তন্দ্রা ছুটল। সুন্দরবনের অসুন্দর আলোচনা দূরে সরিয়ে জারোয়া-বৃত্তান্তে মৃদু কোলাহল-মুখর হলাম সবাই। জারোয়া যে সশরীরে এখনও বর্তমান, এহেন নির্ভেজাল দৃষ্টান্তে প্রত্যেকেরই চোখে-মুখে তৃপ্তির আভাস। কিন্তু বিস্ময় বাকি ছিল - ম্যানেজার রঞ্জিত মৃদুস্বরে বললে, 'তপনদা, সামনে তাকান, একদম কথা বলবেন না'। আমি কিছু দেখার আগেই ঐ একই কথা পিছনের সিটে রিলে করলাম। এই প্রক্রিয়ায় বাসের শেষ সিট্ পর্যন্ত রঞ্জিতের অমোঘ বাণী গিয়ে পৌঁছলো এবং আমরা কিছু দেখবার প্রতীক্ষায় স্থাণুর মত যে যার সিটে অতি উত্তেজনায় ফেভিকল হলাম। পলকহীন চোখ সরাসরি সামনের পূর্ণ দৈর্ঘ্যের উইন্ড স্ক্রিন-এ। রাস্তার বাঁদিক বরাবর এক জারোয়া মহিলা এগিয়ে আসছে আমাদের বাসের দিকে। কপাল থেকে নীল-লাল-কালো রঙের একটা চওড়া হেয়ার ব্যান্ডের মতো দেখতে সুদৃশ্য বন্ধনীর উপরে তিনটি রঙিন পালক। এই নারীর শরীর সম্পূর্ণ নিরাভরণ, বে-আব্রু। ডানহাতে ধারালো কাস্তের মতো অস্ত্র, সুরক্ষার ম্যাসকট। পিঠে কিছু দিয়ে আটকানো রয়েছে একটা বর...

সবুজদ্বীপের ডায়েরি (আন্দামান পর্ব-১২) | Sobujdweeper Diary Ep#12

Image
সবুজদ্বীপের ডায়েরি  ।  আন্দামান পর্ব-১২ সবুজদ্বীপের ডায়েরি । 29th February 2020  । রাত  ১০ টা ......... জারোয়াদের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে Lime Stone Cave দেখে স্পিড বোটে করে বারাটাং দ্বীপের মূল সীমানায় পৌঁছলাম। গাড়ি অপেক্ষাই করছিল, আমাদের নিয়ে এল খুব ছিমছাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি হোটেলে লাঞ্চ-এর জন্য। প্রায় দুপুর দু'টো বাজতে চলল। তিনটের মধ্যে আমাদের রঙ্গত জেটি পার হতে হবে - নইলে আজকের মতো ফেরা বন্ধ। এই ট্রপিকাল রেইন ফরেস্ট বা রিসার্ভ ফরেস্ট, যেটা আদতে জারোয়াদের বাসভূমি, তার দু'প্রান্তে প্রবেশের বেশ কড়াকড়ি। দিনে মাত্র চারবার এর অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যায় সঠিক পরিচয়পত্র অনুমোদন-সাপেক্ষে। সকাল ছ'টা, বেলা ন'টা, দুপুর বারো'টা ও বিকেল তিন'টে - এই চারবার দু'প্রান্তের মূল দরজা খোলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী দিনে একশটির বেশি গাড়ি বা যানবাহনের ঢোকবার অনুমতি নেই এই অঞ্চলে।  আমরা সকলেরই দ্বিপ্রাহরিক আহার যথাসময়ে সাঙ্গ করে নিয়মের বেড়াজাল আরেকবারের মতো ডিঙিয়ে বাসে চড়লাম হোটেলে ফেরার উদ্দেশ্য নিয়ে। গতরাতে কারোরই প্রায় ঘুম হয়নি - বাস ছাড়তেই মোটামুটি সকলেই, মানে আমাদে...