Posts

ছায়ামানুষ | Chhayamanush

Image
কবিপক্ষে .................. (আজ ২৫শে বৈশাখ, বিশ্বব্যাপী ভারতীয় সংস্কৃতির জন্মদিন। আসলে জন্ম আমাদের প্রতিদিন, সূর্য ওঠবার সাথে সাথে। সুপ্তি-শয়নের আলিঙ্গন ছেড়ে নতুন সকাল দেখার মধ্যে দিয়ে আমাদের নিত্যদিনের জন্মদিন পালন। প্রকৃতির আকাশে যেমন সূর্য, ভারতীয় সংস্কৃতির আকাশে তেমনই রবি। সূর্য আমাদের আলোর পথ-প্রদর্শক। রবি - দিশারী সাহিত্য ও সংগীত চেতনায় - আমাদের নিত্যসঙ্গী, ভাবনায়-ভালবাসায়। ভারতের লোকসংস্কৃতি, ধ্রুপদী সঙ্গীত এবং পাশ্চাত্যের শিল্পদর্শনকে পাথেয় করে যে অপার্থিব সৃষ্টির ভান্ডার তিনি উন্মোচিত করেছিলেন - কি সাহিত্যে, কি সংগীতে - তা তাঁকে শুধু বাঙালি তথা ভারতবাসীর হৃদয়ে স্থায়ী সিংহাসনে আসীন করেনি, সেই শিল্পকর্ম রবীন্দ্রনাথকে বিশ্বকবির মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল প্রথম নন-য়ুরোপীয়ান হিসেবে নোবেল প্রাপ্তি। যে সম্মান শুধু ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যকে নয়, সারা ভারতবাসীকে সংস্কৃতির মঞ্চে সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। তাঁর জন্মদিন পালন আমাদের নিজেদের চিরাচরিত ঐহিত্য ও শিল্পের আত্ম-পূজা। সেই পূজার আচারে এক আরাধ্যের বিনম্র  সাহিত্য-অঞ্জলি - আজ এই মহালগ্নের প...

সাগরপারের ডায়েরি (পর্ব-১২) | Sagarparer Diary (Episode-12)

Image
সাগরপারের  ডায়েরি পর্ব-১২ আজকের প্রসঙ্গ : নিউ জার্সি'র সমুদ্র-সৈকতে   সন্ধে ৬টা বাজে - যথেষ্ট আলোকিত বহির্জগৎ। আমার ভিতর-জগৎ অমাবস্যার ঘন অন্ধকারে ঢাকা। সংগঠকরা সকলেই যথেষ্ট অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন। লোকমুখে শোনা ভালো Sound Engineer-কেই ওনারা দায়িত্ব দিয়েছিলেন, কিন্তু তার কান্ড-কারখানায় প্রত্যেকেই যুগপৎ বিস্মিত ও চিন্তিত। নামটিও তার কাজের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই - 'মাইক', কিন্তু সে নামের পূর্বে বর্ণমালার প্রথম স্বরবর্ণটি যোগ করার প্রবল ইচ্ছেকে কিছুতেই দমন করতে পারছি না। যন্ত্রগুলো কঠিন দুঃখে নীরব চোখের জলে আত্মসমর্পণ করেছিল ওই রিহার্সালে - 'Mike'এর হাতে। সরব হবার যথেষ্ট উপকরণ থাকা সত্ত্বেও দুর্বল ব্যবহারিক প্রয়োগে শ্বাসরোধে অপমৃত্যু ঘটলো তার। যদিও আবারও বলব, কাউকে দোষারোপ করাটা কিন্তু কোন কাজের কথা নয়। Mr Mike-এর চেষ্টায় কোন খামতি ছিল না। কমিউনিকেশন গ্যাপ বা ভাষাগত সমস্যা হয়তো এক্ষেত্রে সাময়িক অন্তরায় হয়ে উঠেছিল।   পার্থবাবু বোধ হয় আমাদের বিমর্ষ মনোভাবের বিষয়টি আন্দাজ করেছিলেন। বললেন,'উঠুন আমার গাড়িতে সবাই। এত তাড়াতাড়ি হোটেলে...

" বড়ো অসময় - তবু মনে রেখো " । তপন বসু'র ব্লগ থেকে ........

বড়ো অসময় - ' তবু মনে রেখো' জীবন-সায়াহ্নে এসে মানুষ বড় একাকী হয়ে পড়ে - ঠিক কখন জানেন ? যখন তার স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে ফেলে আসা জীবনের হলুদ হয়ে যাওয়া ছেঁড়া পাতা। সঙ্গী খুঁজলেও কে এসে সেই প্রবীণের পিঠে হাত রেখে বলবে, 'কি ভাবছো? আমরা যে তোমার  দেখানো পথেই পা ফেলছি ! তুমি তো একা নও' !!!  বর্তমান যে বড্ড গতিময় ! কালের চক্রে, আগামীকালকে গুছিয়ে নেবার অভিপ্রায়ে সময় নামক সবচেয়ে মূল্যবান বস্তুটাই যে অধরা!  এ তো গেলো সাধারণের ঘরের কথা। কিন্তু এ প্রৌঢ়ত্বে পা ফেলা মানুষটি যদি 'সেলিব্রিটি' হন ? তার একা হবার উপায় কই ? তিনি তো প্রতিটি মুহূর্তে চোখে চোখে বাঁধা রয়েছেন সংবাদ মাধ্যমের নিয়ন্ত্রিত ছবিওলাদের হাতে ! ভয়, এই বুঝি হারিয়ে গেল scoop ! তাদের পাঠানো তথ্যেই যে আমরা সানন্দে ঢুকে পড়ি সাধারণের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকাদের বেডরুমে ! আনন্দে ভেসে যাই, দুঃখে কাতর হই।  এখন তেমনই দুঃখের ছবি চারিদিকে। 'পৃথিবী ঘরবন্দি' - এই কথাটা অতি-ব্যবহারে কেমন ক্লিশে হয়ে পড়েছে। COVID-19 কার্যতঃ আমাদের এক ভয়ানক সংশয়ের ...

সাগরপারের ডায়েরি (পর্ব-১১) | Sagarparer Diary (Episode-11)

Image
সাগরপারের  ডায়েরি পর্ব-১১ আজকের প্রসঙ্গ : রিহার্সাল ও যন্ত্রের যন্ত্রণা  'Fine Arts' বিষয়টা এমনই যে তা যখন স্রষ্টার অন্তরে থাকে - তার পবিত্রতা থাকে সুরক্ষিত। কিন্তু যখনই তা লোকমঞ্চে আবির্ভূত হয়, তখনই তিনি সর্বজনীন - নানাজনের সংস্পর্শে কখনো রঞ্জিত, কখনো অতিরঞ্জিত, কখনো বা আত্ম-বিজ্ঞাপনের প্রয়োজনে  অতি-উপকারী কিছু হঠাৎ উপস্থিত হওয়া অবতারের ভূমিকায় অতি বিপন্ন । এ'রকম অনুষ্ঠানে সংগঠক, আয়োজক, পরিচালক, টেকনিকাল কাজের দায়িত্বে থাকা মানুষ-জন, প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ভূমিকা থাকে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই একটি অপরটির ওপরে নির্ভরশীল। উপরোক্ত বিষয়গুলো যখন একসূত্রে সংগঠিত থাকে, তখন মঞ্চের উপর অনুষ্ঠান পরিবেশন করতে আসা শিল্পীদের মানসিক যোগসূত্র অনেক উচ্চ তারে বাঁধা পড়ে। শ্রোতারা এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন,  সারাজীবন মনে  রাখার মত এক স্মরণীয় অনুষ্ঠানের সাক্ষী হয়ে ওঠেন ।  শুধু এই কারণেই প্রত্যেক অনুষ্ঠান তার সামগ্রিক উপস্থাপনায় আলাদা আলাদা চরিত্র সৃষ্টি করে, বিভিন্ন রূপে তা সর্বকালীন গ্রহণযোগ্যতা পায় । যে কারণে মঞ্...

সাগরপারের ডায়েরি (পর্ব-১০) | Sagarparer Diary (Episode-10)

Image
সাগরপারের  ডায়েরি পর্ব-১০ আজকের প্রসঙ্গ : হোটেল ম্যাডিসন সুইটস, নিউ জার্সি আমাদের থাকবার ব্যবস্থা হয়েছে   Edison-এ Madison Suites Hotel-এ। এডিসন শহরটা নিউ জার্সি'র মধ্যিখানে অবস্থিত বলা যায়। Sir Thomas Alva Edison - বিখ্যাত এই বিজ্ঞানীর নামেই এই শহর। তাঁর বাড়িটা আমাদের হোটেল থেকে ৫/৬ মাইল দূরেই। এখানে কেউ কিলোমিটারে দূরত্ব মাপে না, মাইল হিসেবে চলে। যেমন পেট্রল বিক্রি হয় গ্যালন মেপে, লিটারে নয়। ৩.৮৭ ডলারে ১ গ্যালন মানে প্রায় পৌনে ৪ লিটার পেট্রল। এদের টাকার বিচারে প্রায় ৪ টাকায় ৪ লিটার পেট্রল। পার্থবাবু বললেন,'কখনো-কখনো এখানে ৩ ডলারে ১ পাউন্ড আলু বিক্রি হয় - যার অর্থ, আলুর থেকে জ্বালানি বেশি আবশ্যকীয় পণ্য ! রাতের খাওয়া হল বাঙালি মতে - আয়োজনকারী সংস্থা IIAP-এরই এক সদস্য বাঙালি নিজের উদ্যোগে রান্না করেছেন অতিথিদের খাওয়াবেন বলে। ভাত, ডাল, বাঁধাকপির তরকারি, মুরগির ঝোল আর চাটনি - অত্যন্ত সুস্বাদু রান্না। শেষ-পাতে সন্দেশের স্নিগ্ধ উপস্থিতি। নিজের কাজ ভুলে যাবার জোগাড়। খাওয়া-দাওয়া শেষে একপ্রস্থ রিহার্সাল সেরে 'এডিসন'-এ আমাদের হোটেলে পৌঁছলাম...

সাগরপারের ডায়েরি পর্ব-৯ | Sagarparer Diary (Episode-9)

Image
সাগরপারের  ডায়েরি পর্ব-৯ আজকের প্রসঙ্গ : ডঃ গুহ'র চেম্বার ও নিউ জার্সি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাইওয়ে'র দু'দিকে সাজানো সৌন্দর্য, পার্থবাবুর সান্নিধ্য আর পথের ধারে জলপান - এই ত্রয়ীর সংস্পর্শে বাকি পথে মৌনব্রত নেওয়া আমাকে নিয়ে এল নিউ জার্সি শহরে ডঃ গুহ'র চেম্বার-এ। Dr. Guha Cardiac Thoracic Surgeon, complicated case handle করেন, সুতরাং Edison, New Jersy-তে তিনি একজন অতি পরিচিত, স্বনামধন্য ডাক্তার - যাঁর পসার এবং নাম-ডাকের ব্যাপ্তি তাঁকে 'বিখ্যাত' আখ্যা দিতে পারে।  এহেন ডঃ গুহ'র ডাক এবার আমাদের দিকে। তাঁর উচ্চগ্রামের আহবান, 'এই যে Mr Basu, আমরা এইদিকে, আমার চেম্বার-এ চলে আসুন'। চেম্বারটি মূল দরজা দিয়ে ঢুকে ৭/৮টি কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ডানদিকে - Elevated Wooden Floor। তাঁর চেম্বার-এই আমরা সকলে প্রথমে জমায়েত হলাম। চেম্বার মানে New Brunswick শহরে প্রায় ১০/১২ কাঠা জমির ওপর দু'তলা ছবির মত বাড়ি। বাড়ির সামনে পার্কিং লট'-এই প্রায় খান দশেক গাড়ি রাখা যায়। এই বাড়িতেই ডঃ গুহ'র প্র্যাক্টিস ও minor surgery।  নিউ জার্সি স্টেটের সবথেকে ভালবাসার একটা ...

সাগরপারের ডায়েরি (পর্ব-৮) | Sagarparer Diary (Episode-8)

Image
সাগরপারের  ডায়েরি পর্ব-৮ আজকের প্রসঙ্গ : নিউ জার্সি'র পথে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গাড়ি নিউ ইয়র্ক এয়ারপোর্ট ছেড়ে এগিয়ে চলল সামনের দিকে। এই গাড়িতে চালকের আসনে যে ভদ্রলোক তার নাম পার্থসারথি মুখোপাধ্যায়। প্রায় ১৭-১৮ বছর ধরে আমেরিকার বাসিন্দা।  বিকেল গড়িয়েছে, তবু সূর্যের আলোর জোর কমে নি। পশ্চিমের দেশ তো ? ...... যেতে হবে নিউ জার্সি। নিউ ইয়র্ক থেকে নিউ জার্সি - ১ ঘন্টার কিছু বেশি সময়ের পথ। দু'টো আলাদা রাজ্য বা স্টেট - দু'টোর নাম শুরু 'নিউ' কথাটা দিয়ে। সে নাম সার্থকও বটে - পুরোনো বা মলিনতা এ দুই শহরকে ছুঁয়েছে বলে মনে হয় না। নিউ জার্সি'র কথায় পরে আসছি। JFK Airport থেকে হাইওয়েতে পড়া গেল - ৮ লেনের রাস্তা - কিছুদূর অন্তর অন্তর পথ-নির্দেশিকা। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার - প্রতিটি নির্দেশিকাই আস্ত, মনে হল গতকাল যেন লাগান হয়েছে।  প্রায় মিনিট ২৫ চলার পর পার্থবাবু বললেন,'চলুন, একটু কফি খাওয়া যাক। হাইওয়ে'র ধারে Dunkin' Donuts-এর একটা দোকান বা কফিবার। বেশ কিছু স্নাক্স ও কফি নেওয়া হল - বুঝলাম পার্থবাবু খেতে ও খাওয়াতে ভালবাসেন। বাঙালির প্রথম পরিচয় এখানে ...